বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

কিশোর গ্যাংয়ের কব্জায় বুড়ির দোকান এলাকা

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৪  

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই ফতুল্লার বুড়ির দোকান এলাকাটি পুরোপুরি কিশোর গ্যাংয়ের কব্জায় চলে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রাস্তায় নেমে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের কলেবরও বাড়তে থাকে। কিশোরদের সবার হাতেই শোভা পায় দামি মোবাইল। এরা দল বেঁধে কারো বাড়ির সিঁড়ি কোঠায় বসে মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও দেখে আর নানারকম ইতরামি করতে থাকে।

 

বাড়িওয়ালাদের নিষেধকেও তোয়াক্কা করে না। এদের কথাবার্তা শুনলে মনে হবে, ওরাই বাড়ির মালিক। এ সময় স্কুলগামী মেয়েদের লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। মাঝে মাঝে সবাই একসাথে চিৎকার দিয়ে ওঠে। দুপুরে গার্মেন্টসের মেয়েরা খাবার খেতে দলবেঁধে বাসায় আসতে থাকলে কিশোরদের চেঁচামেচি আরো বেড়ে যায়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের বেশিরভাগ সদস্যই ভাসমান পরিবারের, অর্থাৎ ভাড়াটিয়াদের সন্তান। এরা পার্শ্ববর্তী মহল্লা থেকেও বন্ধু জুটিয়ে বুড়ির দোকান এলাকায় আড্ডা মারে। এরা কারো মানা মানতে রাজি নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক বাড়িওয়ালা জানান, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমার বাসায় সিঁড়িতে ১০/১২ জন কিশোর বসে আড্ডা মারে। মোবাইল দেখে আর সমস্বরে চিৎকার করতে থাকে। আমি তাদেরকে নিষেধ করলে প্রথম প্রথম দু’একদিন চলে যেতো। কিন্তু এখন আর যায় না।

 

আমার বাসার সিঁড়িতে বসে আমাকেই ধমক দেয়। ডানহাতে মাথায় সিথি করতে করতে এক কিশোর আমার মুখের সামনে আঙ্গুল নাড়াতে নাড়াতে বলতে থাকে, এখন না সময় হলেই ওরা চলে যাবে। বলুন, কার কাছে বিচার চাইবো? মেম্বার সাহেবকে বলেও কোন প্রতিকার পাই না। থানা, পুলিশ করতেও ভয় পাই। কারণ, পুলিশ তো আর সারাক্ষণ আমার বাসা পাহারা দেবে না। এখন বাধ্য হয়েই চুপ থাকতে হচ্ছে।’   

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উত্তরের শেষ প্রান্ত চানমারির পর থেকেই ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের এলাকা শুরু। ইসদাইর বাজারটি ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ ৬ নং ওয়ার্ডের আওতায়। এই বাজারের পর রেল লাইনের পূর্ব পাশ থেকে শুরু হয়েছে পূর্ব ইসদাইর এলাকা। পূর্ব ইসদাইর এলাকাটি ‘বুড়ির দোকান’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।

 

অটো এবং রিকশা চালকেরা বুড়ির দোকান নামটিকে গোটা শহরেই ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রবাসীদের কাছেও ‘বুড়ির দোকান’ নামটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এলাকাটি খুব বেশী বড় না হলেও ঘনবসতির কারণে অনেক লোকের বাস। ভাড়াটিয়া অর্থাৎ ভাসমান পরিবারের সংখ্যাই বেশী এই এলাকায়। 

 

এসব অভিযোগের প্রতিকার জানতে চেয়ে ফতুল্লা থানার সাথে যোগাযোগ করলে বলা হয়, লিখিত অভিযোগ না পেলে তাদের কিছু করার নেই। এস.এ/জেসি   
 

এই বিভাগের আরো খবর