রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাটের বিখ্যাত ‘পুতা মিষ্টি’

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

শামীমা রীতা : শোনা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে ব্রহ্মপুত্রের কোল ঘেঁেষ শুরু হয়েছিলো কাইকারটেক হাট। যদিও এর কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি কোথাও। তবে কাইকারটেক হাট নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে এক সময় এই হাটে হাতি ঘোড়াও নাকি বেচাকেনা হত! ছিল রাজা-বাদশাদের আনাগোনাও।

 

এখনো প্রতি রোববার এ কাইকারটেক হাট দেখতে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে শত শত লোক। এ হাটে গৃহস্থালী তৈজসপত্র থেকে শুরু করে বর্ষায় নৌকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ঐতিহ্যবাহী এই কাইকেরটেক হাট ইতিহাস-ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত হলেও এ হাটের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল  বিশেষ এক ধরণের মিষ্টি। ওজন আর পরিমাপে অন্যান্য মিষ্টি তুলনায় এই মিষ্টি চার থেকে পাঁচগুণ বড়। এর ওজন ২-৩ কেজি হয়ে থাকে। অনেকটা শিলপুতার মতো দেখতে বিধায় এ মিষ্টির নাম দেয়া হয়েছে ’পুতা মিষ্টি’।

 

এই হাটের মতই পুতা মিষ্টির ঐতিহ্যও অনেক পুরোনো। রোববারের এই হাটে অনেকে শুধুমাত্র এ মিষ্টির স্বাদ নেয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেক মিষ্টিপ্রেমী। তবে এ মিষ্টি কবে, কে কিভাবে তৈরি শুরু করে এই ব্যাপাওে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি এখানকার মিষ্টি তৈরী কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।  

 

এ হাটের পুরোনো ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন ভবানী দাস। পূর্ব পুরুষের আমল থেকে তাদের ব্যবসা এ হাটে । আগে সপ্তাহে একাধিকবার হাট বসলেও বর্তমানে প্রতি রোববার দোকান বসান ভবানী দাস।  তার  দোকানে কালোজাম, বালুশাহ্ নানা পদের মিষ্টি থেকে শুরু করে দই, পরোটা-ভাজি, ডালসহ রয়েছে নানান পদ। কিন্তু তার দোকানের অন্যতম আকর্ষণ পুতা মিষ্টি । তার দোকানে ১৩০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এ মিষ্টি।

তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার দাদা-বাবা মিলে প্রায় ৭০ বছর আগে মিষ্টির ব্যবসায় শুরু করে। তারপর  সেও তার বাবার হাত ধরে এই ব্যবসায় আসে।  সেই থেকে এখন পর্যন্ত চলছে ভবানী দাসের মিষ্টির দোকান।

 

পুতা মিষ্টির সম্পর্কে জানতে চাই তিনি বলেন, এই মিষ্টি কে কবে এখানে বানানো শুরু কওে সে সম্পর্কে কিছুই জানি না। তবে দাদা-বাবাদের দেখতাম এ মিষ্টি বানাতে। তাদের কাছ থেকেই আমি এই মিষ্টি বানানো শিখেছি। ঠাকুরদাদার কাছে শুনেছি তারাও তাদের বাবার কাছ থেকে এ মিষ্টি বানানো শিখেছে।  এর থেকে ধারণা করা যায় এ মিষ্টি বানানো শুরুর বয়স শতবর্ষের কম হওয়ার কথা নয়।

তিনি জানান, অন্যান্য মিষ্টির মতই এই মিষ্টি তৈরীর উপাদান একই। এই মিষ্টি দইয়ের সাথেও খাওয়া যায়। এ মিষ্টি শুধু কাইকারটেক হাট নয়, গ্রামেগঞ্জে বিভিন্ন মেলাতেও পাওয়া যায়। এ হাটে প্রতিটি মিষ্টির দোকানের আকর্ষণ পুতা মিষ্টি। দেখেই বোঝা যায় বেশ কদর রয়েছে এ মিষ্টির।

 

শুধু মিষ্টি নয়, এখানে বিক্রি হয় হাসেম মিয়ার বিশেষ ঝালমুড়ি, বুট, মোয়াসহ নানা ধরনের লোকজ খাবার। এ ছাড়াও প্রায় ৫০ পদের মাছের শুটকিও এখানে খুব নামকরা।

এই বিভাগের আরো খবর