সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

এ ভাষা ইতর জনের

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২২  

# জিব টেনে ছিড়ে ফেলতে চেয়ে জাত চেনালেন খোকন সাহা

 

গতকালের যুগের চিন্তা পত্রিকা খুলে দুটি শিরোনাম দেখেই চমকে উঠেছি। শির শির করে উঠেছে গা। জিব ছিড়ে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়ার হুমকী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন চন্দ্র সাহা। অপরদিকে, বন্দর কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেছেন, তোরে খাইয়ালামু (তোকে খেয়ে ফেলবো)।


এড. খোকন সাহা জিব ছেড়ার কথা বলেছেন,গত ১৩ মার্চ বিকেলে ফতুল্লার হরিহরপাড়ায় অবস্থিত ইউনাইটেড ক্লাব প্রাঙ্গনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের কর্মীসভায়। ওদিকে, দেলোয়ার হোসেন প্রধান খেয়ে ফেলার কথা বলেছেন, গত ১২ মার্চ বন্দর ২৩নং ওয়ার্ডে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্র্মীসভায়।

 

এ সভায় এমপি শামীম ওসমানও উপস্থিত ছিলেন। সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকীমঞ্চের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে খোকন সাহা বলেছেন,‘আপনারা আমাদের নেতাদের সম্পর্কে যা তা বলে যাচ্ছেন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে আপনাদের জিব ছিড়ে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেব। শীতলক্ষ্যার পানিতে তা ভেসে যাবে। নেতার (শামীম ওসমান) বিরুদ্ধে আগামীতে লাগামহীন কিছু বললে আর ছাড় দেয়া হবে না।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেলোয়ার প্রধান খেয়ে ফেলতে চেয়েছেন কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড অধিবাসী হাজী নাসিরউদ্দিনকে। আওয়ামী লীগ নেতা নাসিরউদ্দিন এ হুমকীর পর ভয় পেয়ে নিরাপত্তার জন্য বন্দর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন।


সূধী মহলের মতে, দেলোয়ার প্রধান কোন মার্জিত লোক নন। তার মুখে ‘তোরে খাইয়ালামু’ মোটেই বেমানান নয়। কারণ, কালী-কলমের সঙ্গে সম্পর্কহীন দেলোয়ার প্রধানের নামের আগে তেলচোরা শব্দটি না লাগালে নারায়ণগঞ্জবাসী তাকে চিনতে পারে না।

 

তবে, দেলোয়ার প্রধানের মতো এলেবেলে লোক এড. খোকন সাহা নন। তিনি একজন আইনজীবী ও বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা। কথা বলার সময় শব্দ চয়নে তার সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, পারিবারিক ভাবে সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত জনেরা শব্দ চয়নে সাবধান। কারণ, ‘জিব টেনে ছিড়ে ফেলবো’ এটা ভদ্রজনের ভাষা নয়। এটা পারিবারিক ভাবে ইতরজনের ভাষা।

এই বিভাগের আরো খবর