রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

এসপি জানেনই না চাষাঢ়া থেকে খানপুর রাস্তা দখল করে রাখে! :ডিসি জসিম

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন বলেছেন,  বিআরটিএ ও এসপি (পুলিশ সুপার) তো জানেনই না পুরো রাস্তার উপর দখল থাকে চাষাঢ়া থেকে খানপুর পর্যন্ত বাস মালিকদের গাড়ি থাকে। অথচ রূট পারমিট দেয়ার সময় বলা হয়েছে বাসগুলো আলাদা জায়গায় থাকবে। কিন্তু দেখা গেছে পুরো তিন লাইন করে তারা দখল করে আছে। সিদ্ধিরগঞ্জের অবস্থা আরো খারাপ। বর্তমানে শিবু মার্কেটে বেশি যানজট হয়।  


মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে জেলাপ্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা সড়ক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োচিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’।  


 জেলা প্রশাসক সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন,আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের সখ্যা কমেছে ?  বিগত কি পরিমাণ লাশ ছিলো আর এখন কি পরিমাণ আছে ?  আমার কাছে মনে হয় না; দুর্ঘটনায়  লাশের সংখ্যা  কমেছে।সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে । বর্তমানে মোবাইল কোর্টের পরিমাণ খুব কম।

 

জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ শহরে ৩০ টি মোবাইল কোর্ট চালানোর ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে বলেন বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের।  প্রয়োজনে এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা  নিতে বলেন তিনি। 


সড়ক দখল করে রাখা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ঠিকাদাররা  নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তারা কাজ করার সময় পুরো রাস্তা আঁটকিয়ে কাজ করে। এতে তাদের কোন দায়দায়িত্ব নেই যে একটু রাস্তাটি ছেড়ে দেই। তারা কাজ করলে পুরো রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। 


জেলা প্রশাসক স্বল্প সময়ে দ্রুত কাজ করতে  পারে  এমন ঠিকাদারদের  টেন্ডার দেয়ার আহবান জানিযে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে রাস্তার কাজ আধুনিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে কাজ করছে। আমাদের ঠিকাদাররা রাস্তার উপর রোড, বালু রাখে অথচ আপনি তার সব কিছু ধরে দিয়েছেন। সে আলাদা জায়গায় ভাড়া করে পাথর, বালু রাখবে। কিন্তু তারা রাস্তা দখল করে কাজ করে।


সিভিল সার্জনকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন,  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুরে ট্রমা সেন্টার অথবা হাসপাতালগুলোতে যেন দুর্ঘটনায় আহতরা দ্রুত ভর্তি হতে পারে সেটির ব্যবস্থা করে দেন। কারণ বেশির ভাগ মানুষের সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তক্ষরণ হয়। অথচ তারা সেবা না দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। আমরা এসব বিষয় লক্ষ্য করে সেখানে একটি হাসপাতাল কিংবা ট্রমা সেন্টার তৈরি করার জন্য অনুরোধ করবো।


লাইসেন্স নিতে আসা চালকদের উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা অনেকে গাড়ি চালানোর সময় মনে করতে পারেন আপনার গাড়িতে আত্মীয়-স্বজন নেই। কিন্তু আপনার সাথে যে গাড়িটার সাথে দুর্ঘটনা হয়েছে সেই গাড়িতে আপনার বাবা-মা-সন্তান ছিলো বা থাকতে পারে এই ধরণের চিন্তা কিংবা কল্পনা করে গাড়ি চালালে তাহলে আর দুর্ঘটনা ঘটবেনা।


অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যুথিকা সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জের সহকারি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ,  সড়ক ও জনপথের (সওজ) ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, বিআরটিএ রাজস্ব কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সভাপতি ডা.আল ওয়াজেদুর রহমান প্রমুখ। 
 

এই বিভাগের আরো খবর