শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

এবারও বুক পেতে দিল সুন্দরবন, দুর্বল হলো ‘বুলবুল’

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : তেড়েফুড়ে আসা বুলবুল প্রথম ধাক্কাটা খায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হেনে। আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ঘেঁষে আঘাত হানার কারণে দুর্বল কিছুটা হয়েছিল। কিন্তু বুলবুলকে বেশি দুর্বল করে দেয় সুন্দরবন।


রোববার (১০ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ঘেঁষে প্রথম আঘাত হানার পর বুলবুল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছিল। কিন্তু বুলবুলের পূর্ব এবং পশ্চিম দুদিকেই তিন কোনার মতো অবস্থানে ছিল সুন্দরবন। সুন্দরবনের গাছপালার কারণে বুলবুল বেশ দুর্বল হয়ে যায়।


তিনি বলেন, উত্তর আন্দামান সাগরে যখন এই নিম্নচাপের সৃষ্টি তখন সেখানকার সাগর ছিল বেশ উত্তপ্ত। আর এই উত্তপ্ত থাকার কারণেই নিম্নচাপ থেকে খুব দ্রুতই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড়টি যদি সরাসরি সাগর থেকে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানত, তাহলে সিডরের মতো না হলেও এর কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। কিন্তু এটি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।


প্রথমে ভারতীয় অংশের সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত করে। এরপর এটি বাংলাদেশের সুন্দরবনের খুলনা অংশে ঢুকে পড়ে। দুই দেশের সুন্দরবনের গাছপালায় বাধা পেয়ে দুর্বল ‘বুলবুলের’ কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে যায়। জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতাও কমে আসে।


এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা একইভাবে সুন্দরবনে বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।


ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জেলাগুলোতে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে দিনভর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিসহ দমকা হাওয়া বয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ থাকে নৌযান চলাচল। বিঘ্নিত হয় আকাশপথের যাত্রা। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর সব ধরনের কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। এর প্রভাবে আজ রোববারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে।


শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ বলেন, সুন্দরবনের গাছপালায় বাধা পেয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বেশ দুর্বল হয়ে গেছে। এটি রাত নয়টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবন অংশে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। এতে বাংলাদেশের মূল ভূখ-ে কিছুটা দেরিতে ও দুর্বল অবস্থায় প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রোববার ভোর পাঁচটার দিকে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা উপকূল অতিক্রম করে। পরে আঘাত হানে সাতক্ষীরায়। ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে গেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল রাত নয়টায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম শুরু করে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। খুবই কমসংখ্যক লোককে রাস্তায় বের হতে দেখা গেছে।


গতকাল কক্সবাজার উপকূলে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে। কয়েক শ ঘরবাড়ি পানিবন্দী রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের নাম দিয়েছেন পাকিস্তানের আবহাওয়াবিদেরা। জাতিসংঘের আওতায় গঠিত সংগঠন ইউএনএস্কেপের মাধ্যমে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়াবিদেরা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে থাকেন।


চলতি বছর এ নিয়ে মোট সাতটি ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূষ্টি হলো। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় পামুক চীনে, ফণী ভারতের ওডিশা ও বাংলাদেশে, বায়ু ভারতে, হিক্কা, কায়ার ও মাহা ভারতে আঘাত করে।

এই বিভাগের আরো খবর