শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

এনায়েতনগরে ইজিবাইকে চাঁদাবাজি ও ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারিগর কামাল

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# দৈনিক, মাসিক হারে চাঁদাবাজি ও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি

 

 

নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক বর্তমান সময়ে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং চালকের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক না হওয়ার সুযোগ নিয়ে এ সেক্টরে চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে। যেকোনো বয়সের যে কেউ  চাইলেই স্বল্পমূল্যের এই গাড়ি কিনে হয়ে যান গাড়ির মালিক। যার ফলশ্রুতিতে অপরিপক্ক বয়সের অদক্ষ চালক এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা।

 

শুধু তাই নয়, অবৈধ এই যানটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। অবৈধ এ যানটি দেশের সিংহভাগ বিদ্যুৎ যেন গিলে খাচ্ছে অবৈধভাবেই। এর সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে এ খাতকে পুঁজি করে গড়ে ওঠে চাঁদাবাজচক্র। এ চক্রের ই একজন সদস্য হলেন ফতুল্লা থানাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত ধর্মগঞ্জ মওলা বাজার এলাকার চাঁদাবাজ কামাল ওরফে অটো কামাল। 

 

সুত্রমতে, এনায়েতনগরের পঞ্চবটি থেকে ধর্মগঞ্জ গুদারাঘাট এই রুটে সর্বসাকুল্যে অবৈধ এ গাড়ি চলে প্রায় পাঁচশতাধিক। এই রুটে গাড়ি চালাতে হলে প্রথমেই যোগাযোগ করতে হয় এই চাঁদাবাজ কামালের সাথে। সে যদি চায় তবেই চালকেরা এই রুটে নিজেদের গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করাতে পারবেন। এর জন্য প্রতিমাসে চালককে ৩০০ টাকা এবং প্রতিদিন লাইনম্যান বাবদ ১০ টাকা করে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি গাড়ি মাসে ৬০০ টাকা চাঁদা দিয়ে এ রুটে চলতে হয়। 

 

এই রুটে মাস শেষে তিন লক্ষ টাকার অধিক চাঁদাবাজি হয় এই চাঁদাবাজ কামালের হাত ধরে।  তথ্য নিয়ে আরও জানা যায়, প্রতিটি গাড়ির চালককে আশ্বাস  দেওয়া হয় গাড়ি যদি প্রশাসনিকভাবে কোন ঝামেলায় পড়ে তবে এই অটো কামাল সেই সমস্যা সমাধান করে দিবেন। 

 

কিন্তু বাস্তব অর্থে চালকদের পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়। গাড়ি যদি প্রশাসনিক ভাবে কোন ঝামেলায় পড়ে তবে চালক নিজ অর্থ খরচ করে সেই গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে হয়। অর্থাৎ প্রতিমাসে তাকে চাঁদা দিয়ে এই রুটে গাড়ি চালালেও তার দ্বারা কোন সুবিধা পায় না চালকেরা। একরকম বাধ্য হয়েই তাকে চাঁদা দিতে হচ্ছে চালকদের।

 

কারণ এই চাঁদাবাজ কামাল নিজে একটি চাঁদাবাদ চক্র সৃষ্টি করে সব চালকদের জিম্মি করে রেখেছেন। কেউ কেউ জানান এ রুটের চাঁদাবাজির টাকায় তিনি মাওলা বাজারে তার শ্বশুরের জায়গায় বাড়ি নির্মাণের কাজ করছেন। এই চাঁদাবাজ কামাল যে শুধু চাঁদাবাজি করে ক্ষান্ত হন তা নয় বরং সর্বস্তরের জনগণকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার এক অভিনব উপায় নিয়ে হাজির হয়েছেন। 

 

তথ্য মতে, এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ  কারো সাথে কোন রকম আলোচনা না করেই নিজেদের একক সিদ্ধান্তে এই রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।  

 

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, উক্ত রুটের প্রতিটা ইজিবাইকের সামনে নতুন ভাড়ার তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে উক্ত এলাকার চালক এবং যাত্রীদের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ আমরা খেটে খাওয়া নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ। কাজের সুবাদে প্রতিদিন কয়েক দফা এই রুটে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু তারা আমাদের কথা বিবেচনা না করে নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করে নিজেদের একক সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে যা মোটেও কাম্য নয়। অতি শীঘ্রই নতুন এ ভাড়া বাতিল করার দাবী জানাচ্ছি। 

 

চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কামাল ভাই নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাড়া বাড়ানো হবে। সেই হিসেবে তাদের নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। 

 

এ ব্যাপারে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে যে কয়টা গাড়িতে বাড়তি ভাড়া বৃদ্ধির তালিকা সাটানো ছিলো সেই গাড়িগুলো জব্দ করেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি এখানকার মানুষ খেটে খাওয়া এবং নিম্নবিত্ত। ভাড়া বৃদ্ধি করলে তাদের অসুবিধা হবে। যেন বাড়তি ভাড়া না নেওয়া হয়। কারো একক সিদ্ধান্তে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টা মোটেও কাম্য নয়।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কামালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি যুগের চিন্তাকে  বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এই ধরনের কাজের সাথে যুক্ত নই। আপনি এই ব্যাপার নিয়ে নিউজ কইরেন না। তবে চালক এবং যাত্রী উভয় মহলের দাবী এই রুটে কারো জিম্মি হয়ে তারা থাকতে চান না। তারা চায় চাঁদাবাজি বন্ধ হোক। যারা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হোক। এস.এ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর