মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

এটিএম কামালের অতি উৎসাহে বিএনপি নেতাদের একহাত!

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। ১২ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পেছনে ৪১, চাষাঢ়া বালুর মাঠ মডার্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ ও ভারতের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। শুরুতে পুলিশ ৩০ মিনিটের মধ্যে সমাবেশ শেষ করার কথা বললেও মাত্র ১ মিনিটের মধ্যেই সমাবেশ প- হয়ে যায়। মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই পুলিশ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।  পুলিশের কথা মতো মাত্র ১ মিনিটের মধ্যে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ খান টিপু নেতাকর্মীদের সরে যেতে বললে এসময় মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল তার সাথে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় মহানগর বিএনপির সভাপতিসহ নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিন্তু তখনও বাকবিতন্ডা চলছিল এটিএম কামাল ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মধ্যে। নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পরও সেখানে থাকেন এটিএম কামাল। তিনি বলতে থাকেন, ভয় পেলে রাজনীতিতে থাকা কেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই অন্যান্য নেতাদের উপর রাগ ঝাড়তে পারেন। হাতেগোনা কয়েকজন বিএনপি নেতা এটিএম কামালের এমন আচরণে বলা শুরু করেন, বক্তব্য দিতে না পেরে এখন তিনি নিজের সাহসিকতা আর অন্যদের নিচু করে দেখাচ্ছেন। এটিএম কামালের এমন আচরণ মোটেও ভালো চোখে দেখেননি অন্যরা। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এটিএম কামালের উপর রাগ উগরে দিয়েছেন।       

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘সেজেগুজে নায়ক নায়ক ভাব মনে করে নাটক করলেই রাজনীতি হয় না। কোন প্রোগ্রামের পর যদি কিছু হয়, তা ব্যক্তি স্বার্থে নাটক কিন্তু দলের জন্য নয়! ভাত রান্না কওে কে,আর রান্না করার কথা কয় কে? পৃথিবীতে কেউ কোন লড়াই একা করে নাই,আর একা কেউই লড়াই করে জিততে পারে না। যারা বলে একা লড়াই করে যাচ্ছি এবং যারা লিখে  কেউ একা লড়াই করে যাচ্ছে, তা পাগলের প্রলাপ। কে বীরপুরুষ, কে নাটকবাজ পুরুষ, কে নেশাখোর পুরুষ, কে ধান্দাবাজ পুরুষ, তা ৩৬ বছরের রাজনীতিতে জানি ও দেখেছি। আবার সরকারি দলের নেতাদেরকে শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস দিয়ে দালালি করার ইতিহাস নারায়ণগঞ্জবাসী ও আমরা সবাই জানি। গতকাল ১২ই অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিবাদ জনসমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়ে জনসমাবেশটি বাতিল করে দেওয়ার পর সর্বশেষ ওই স্থান ত্যাগ করি আমি। কিন্তুু এর মানে এই নয় যে আমি ছবি উঠিয়ে প্রকাশ করবো আমি বীর পুরুষ, আর যারা আগে চলে গেছে তারা ভীতু এটা ঠিক নয়। বরং সরকারী দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য পুলিশের উস্কানিতে পা দিয়ে মামলা খেয়ে নেতাকর্মীকে মাঠ ছাড়া করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ২/১ জন গ্রেফতার হয়ে বাহবা নেওয়ার পায়তারা করেছে, কিন্তুু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়াতে আবোল-তাবোল বকছে। এটা হলো অপরাজনীতি।’

 

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহমেদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সব থেকে সিনিয়র ও সাবেক তিনবারের সফল সাংসদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড.আবুল কালাম সাহেবের বিচক্ষণতার কারণে গতকালের মহানগর বিএনপির প্রোগ্রামটা কোন বড় ধরণের ঝামেলা ছাড়াই শেষ করতে পেরেছি আমরা।অন্যথায় আজ জেলা বিএনপির প্রোগ্রামতো  ১মিনিটও দাঁড়াতে পারেনি। গতকাল ব্যাপক লোক সমাগমের কারণে আমরা অল্প কিছুক্ষণ হলেও প্রোগ্রাম করতে পেরেছি। নারায়ণগঞ্জ  মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তার এই অভিভাবক সুলভ বিচক্ষণ নেতৃত্বের জন্য বিপ্লবী সালাম জানাচ্ছি। এবং যারা একজন নেতা-কর্মী বিপদে পড়লে খোঁজ-খবর নেয়ার সময় পায়না, উপকার করবেতো দূরের কথা তারা মিডিয়াতে নিজেদের সংগঠনকে অপমান করে প্রচার নেয়ার অভিপ্রায় দেখে আমি হতবাক। আশাকরি শুভবুদ্ধির উদয় হবে তাদের। অন্যথায় ছাত্রদল এই সব অপরাজনীতির জবাব কঠোরভাবে দিতে বাধ্য হবে। দেশ ও দলের এই সময়ে যারা কুটবুদ্ধি দিয়ে রাজনীতিতে টিকে আছেন তারা দলের ভিতর ঘাঁপটি মেরে থাকা কীট। সিনিয়রদের এহেন এরকম নির্বোধ আচরণ কোনভাবেই কাম্য না।’
 

এই বিভাগের আরো খবর