বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

এখন গডফাদাররা আসতে সাহসও পায় না : মেয়র আইভী

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, এ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর যে কি বিশাল শক্তি তার প্রমান কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ ত্বকী হত্যার বিচার চাওয়া। এভাবে কিন্তু দীর্ঘদিন কেউ দাড়িয়ে থাকতে পারেনি। 


আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী কিন্তু এ অপশক্তির বিরুদ্ধে দাড়িয়ে আছি। কিভাবে যে দাড়িয়ে আছি এটাই কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়। আমরা নিজের মাঝে শক্তিকে বের করা চেষ্টা করছি এটাই আমাদের বড় শক্তি।


আমরা এ শহরের বিশাল বড় গডফাদারকে আমরা কিন্তু ভয় পাইনি। রাস্তায় দাড়িয়ে থেকেছি। ৯/১০ জন লোক হলেও কিন্তু দাড়িয়ে থেকেছি। এখন কিন্তু ১৫থেকে ২০ জন লোক দাড়িয়ে প্রতিমাসে ৮ তারিখে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করছে। কিন্তু এখন গডফাদাররা আসতে সাহসও পায় না। 


এটা কেন হয়েছে? আপনাদের যে বিশাল শক্তি ভেতরে তার ধারাই সম্ভব হয়েছে।  এই যে শিল্পীদের যে শক্তি সে শক্তির কাছে সকল অপশক্তি  পরাজয়  বরণ করেছে। আগেও করেছে এখন করছে। ভবিষ্যতেও করবে। আমি আপনাদের সাফল্যে কামনা করে আপনাদের জয়যাত্রার সাথে থাকতে চাই।


আনন্দধারার সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির সভাপতিতে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে আনন্দধারার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সকল কথা বলেন।


তিনি বলেন, সংস্কৃতি সংগঠনগুলো নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জে কাজ করে যাচ্ছে। আমি যখন ছোট ছিলাম পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে আব্বার সাথে আসতাম। তারপর অনেকদিন পড়াশুনার জন্য বাইরে চলে গিয়েছিলাম। 


তারপর ২০০৩ সালে আবার মেয়র হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর যাবৎ আপনাদের সাথে আছি। আপনাদেও প্রতিটি কর্মকান্ডেই আমার  নৈতিক সম্পর্ক থাকে এবং চেষ্টা করি আপনাদের কাজের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য।


কি পারে না শিল্পীরা? কি পারে না এ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এ লোকজন? যা বলার অপেক্ষা রাখে না। ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ এর যুদ্ধ, যুদ্ধের পর ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে এ পর্যন্ত সকল কর্মকান্ডে এগিয়ে আসে সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তারপর অন্যান্য দলের লোকেরা। এই যে নৈতিক সাহস। 


এই যে প্রত্যেকটা জায়গার মধ্যে তাদের সামনে থাকা এটা কোথা থেকে আসে? কিভাবে আসে? এটা হল দেশ প্রেম। মানুষের প্রতি ভালোবাসা। অন্যায়ের প্রতি রুখে দাড়ানো। এ সব কিছুই এক হয়ে এ সাংস্কৃতি কর্মীদের ভেতরে থাকে।


আর আপনাদের সাথে আমার ঐ মনের মিল আছে বলেই আমি  আপনাদের সাথে একসাথে দীর্ঘদিন পথদিন পথ চলছি। আমার বাবাও আপনাদের সাথে ছিলো। আমিও যতদিন বেঁচে থাকি আপনাদের সাথেই যেন থাকতে পারি। আমি চেষ্টা করি আপনাদেও চাহিদা মোতাবেক কাজগুলো যাতে করে দেয়া জন্য।


এ সময় তিনি ‘কিশোর গ্যাং’ প্রসঙ্গে বলেন, এই যে ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরাও বলছে। অথচ এ কিশোরদের কিভাবে এ ধরণের কর্মকান্ড থেকে দূরে সরানো যায়, ভালো পরি বেশ দিতে পারি এ চিন্তাটা আমরা কিন্তু কেউ করছি না। সেই চিন্তাটা যদি রাষ্ট্রিয়ভাবেও চিন্তা করি তার একমাত্র পথ সেটা হল সাংস্কৃতিক অঙ্গন।  


যত বেশি একটি দেশের সাংস্কৃতি উন্নত হবে তত বেশি ঐ দেশ এগিয়ে যাবে। সত্যিকার অর্থেই  সংস্কৃতি চর্চার জন্য আমাদের কিছুই নেই। তবুও আমরা নারায়ণগঞ্জে চেষ্টা করছি। আমরা শেখ রাসেল পার্ক করেছি। যদিও এখন তা সম্পূর্ণভাবে ঠিক করা হয় নি। তবে আমরা পার্কের মঞ্চটি উন্মুক্ত করে দিয়েছি। 


খেলার মাঠও ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। এছাড়া  কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সিস্টিটিউটটের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। আমরা সেখানেও সাংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পাবো।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাষ্টি লেখক গবেষক মফিদুল হক বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হওয়ার যে শিক্ষা তার জন্য এ ধরণের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কিভাবে গড়তে হবে সেটা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। 


ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে সংস্কৃতির একটি এ জাগরণ ও সম্ভাবনা তৈরীতে মেয়র আইভী কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জে যদি এ ধরণের জাগরণ সৃষ্টি করতে তাহলে সমগ্র দেশের সামনেও এটা একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।  


নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, আজকে সংস্কৃতিক চর্চার অভাবে দেশে কিশোর গ্যাং তৈরী হচ্ছে। সন্তানেরা কথায় ছুটছে। দিনে রাতে কেবল পরীক্ষা। একজন কর্মজীবি মানুষের চেয়ে বেশি কর্ম করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের জীবনে কোন সময় নেই তাদের কোনো শৈশব নেই, তাদের খেলা নেই। 


বর্ষায় নদীতে সাঁতার কাটা নেই। তাদের একটাই আছে কেবল বই পড়া এবং পরীক্ষা। এগুলো করতে করতে তারা আজকে সংস্কৃতি চর্চা করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে শিশু-কিশোররা পড়াশুনা থেকে বের হয়ে  অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কেউ শিক্ষা বিমুখ হয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করেছে । 


সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, আনন্দধারা ১৯৯০ সালে যাত্রা শুরু করেছিলো এবং সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত আনন্দধারা  তার কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে সংস্কৃতিকে গতিশীল রাখার কর্মে নিয়োজিত ছিলো। সংস্কৃতি হচ্ছে অন্ধকারকে ঠেলে আলোয় ধাবিত হওয়া। 


এ কাজটি আনন্দধারা তার সাধ্যমত করার চেষ্টা করেছে। আমাদের সমাজে এ প্রতিকূলতা ঠেলে অচলায়তন ভেঙে সামনে অগ্রসর হতে চেয়েছে। আমরা দেখেছি আমাদের সামাজের পরখে পরখে যে অন্যায় অবিচার দুঃশাসন রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে একে বেঁধ করে সামনে অগ্রসর হওয়াটাই হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের দায়। 


আমরা সে দায় থেকেই  সমাজে এ বিভিন্ন অন্যায় অবিচার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত থাকার চেষ্টা করেছি। সাংস্কৃতিক জোট ছাড়াও সাংস্কৃতিক জোটমুক্ত অন্যসকল সংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও আমরা একই পথে অগ্রসর হয়ে আমরা আমাদের সমাজকে নিয়ে হাজির হবো  দেশকে এগিয়ে যাওয়া লক্ষ্যে।


আলোচনাপর্ব শেষে  তিনি  প্রতিযোগীতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। 


এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাধারণ সম্পাদক শাহিন মাহমুদ, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলে, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি রথিন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সভানেত্রী লক্ষ্মী চক্রবর্তী প্রমুখ।
 

এই বিভাগের আরো খবর