বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

একাই ৩০ বছর ধরে একই পদে বহাল মজিবুর রহমান

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৪  


প্রায় ৩০ বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান। বিগত ১৫ বছর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেই কোন গতি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ত্যাগী ও তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি না থাকলেও এই ১৫ বছরে মজিবুর রহমানের স্বজনদের পকেট ভারী হয়েছে ঠিকই।

 


নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। এই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দি হিসেবে তেমন কোন শক্ত প্রার্থীও ছিলোনা।

 

 

থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান নির্বাচনী দলিয় দায়িত্ব নিয়ে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র কমিটি গঠন করেন। এ ওয়ার্ডে ছিল ১০টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে মিজমিজি বাতেন পাড়া এলাকায় ৪টি কেন্দ্রর দায়িত্ব নেয় সভাপতি মজিবুর রহমান, তার ছেলে, নাতী, ভাতিজা ও আত্বীয় স্বজনরা।

 


বাতেন পাড়ার ৪টি ভোট কেন্দ্র হলো- হিরাঝিল আইডিয়াল স্কুল, বাতান পাড়া (পুরুষ ভোট কেন্দ্র), এখানে মোট ভোটার ৩৩৩০, এর মধ্যে ভোট পড়েছে ৬৬৯টি। ১০০নং বাতানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরুষ ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩২২৫ এর মধ্যে ভোট পড়েছে ৭৬২টি।

 

 

মিজমিজি পাইনাদি সিনিয়র (ফাজিল) মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্র-১ এ (মহিলা ভোট কেন্দ্র) মোট ভোটার ৩৪১২ এর মধ্যে ভোট পড়েছে ৩৮১টি। মিজমিজি পাইনাদি সিনিয়র (ফাজিল) মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্র-২ এ (মহিলা ভোট কেন্দ্র) মোট ভোটার ৩৩৪৯ এর মধ্যে ভোট পড়েছে ৪০৪টি।

 


নির্বাচন পূর্ববর্তী কয়েক মাস জুড়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দলীয় সব রাজনৈতিক কর্মসূচিই শামীম ওসমান তার অনুসারীদের সাথে নিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু ভোটের মাঠে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেমনভাবে সফল হতে পারেন নি।  

 


এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ বলছেন, ব্যর্থ তিনি (শামীম ওসমান) হন নি। ব্যর্থ হয়েছেন দায়িত্ব নেওয়া নেতারা। কারণ নেতা সে হয়, যার কথায় মানুষ সাড়া দেয়।

 


শামীম ওসমান সব সময় সিদ্ধিরগঞ্জকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এই অঞ্চলে তার অনুসারী রয়েছে চোখে পড়ার মতো। তবে ভোটের মাঠে কেউ ছিলো সফল আবার কেউ চূড়ান্ত ব্যর্থ। মজিবুর রহমান শামীম ওসমানের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি বলে মন্তব্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।

 


এছাড়াও নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তেও দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানকে ব্যর্থই দেখা গেছে। এ নিয়েও এলাকা জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

 


নির্বাচনের দিন বাতেনপাড়া ভোট কেন্দ্রের সামনে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের বক্তব্য ছিল, সুষ্ঠুভাবে ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা আসতেছে এবং ভোট গ্রহন হচ্ছে। আমাদের এখানে কোন বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নেই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে চোখে পড়ার মতো। আমাদের এ কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে একেএম শামীম ওসমান। এছাড়াও তিনি বলে থাকেন, সিদ্ধিরগঞ্জের মাটি শামীম ওমানের ঘাটি।

 


স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য এলাকায় উৎসব মূখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বা ভোট চাইতে দেখা গেলেও ১নং ওয়ার্ডের বিশেষ করে মিজমিজি পূর্বপাড়া, বাতেন পাড়া, মিজমিজি মজিববাগ, আলামিন নগর, মতিন হুজুরের বাড়ীসহ বিলেরপাড় এই সব এলাকায় অন্যসব মার্কাতো দুরের কথা নৌকা মার্কার কোন লোক ভোট চাইতে বাড়ীতে-বাড়ীতে আসছে এমন কোন লোকের দেখাও মেলেনি। কিন্তু তার পরও আমরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছি। সব মিলিয়ে বলা যায় শামীম ওসমানের পক্ষে ভোটের মাঠে এই নেতা চরমভাবে ব্যর্থ।

এই বিভাগের আরো খবর