শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

একজোটে ত্বকী হত্যার বিচার চাইল সাংষ্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতারা

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : মেধাবী কিশোর ত্বকী হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সাংষ্কৃতিক ও বাম রাজনৈতীক সংগঠনের নেতারা। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের ডিআইটি‘র আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার ও নগর মিলনায়তনে প্রাঙ্গণে ত্বকী হত্যার ৭৮ মাস উপলক্ষ্যে মোমশিখা কর্মসূচীতে এই দাবি জানানো হয়। 


 এ সময় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, আজকে ত্বকী হত্যার সাড়ে ছয় বছর। আমরা যে বিষয়টি দেখলাম ২দিন আগে ত্বকীর ঘাতক আজমেরী ওসমান কালীবাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করতে গিয়ে সেটা না পেয়ে  তাকে মারধরের জন্য পুলিশ তাকে গ্রেফতারের অভিযান চালিয়েছে।


তাকে এখন খুজে বেড়াচ্ছে এবং সে পালিয়ে রয়েছে। অথচ ত্বকী হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত গুরুত্বর অপরাধে তাঁকে ধরা হচ্ছেনা শাস্তি দেয়া হচ্ছেনা। আমরা দাবি জানাচ্ছি ত্বকী হত্যার মূল অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতার এবং ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দী গ্রহনের জন্য।


কারন আমরা জানি যে, আজমেরী ওসমানের ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতেই শামীম ওসমান ও তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানসহ আরো বিভিন্ন নাম প্রকাশ হবে। তাই আমরা দাবী জানাচ্ছি তাকে গ্রেফতার করে তাঁর জাবানবন্দীর মধ্যে দিয়ে অন্যান্য যারা এটার সাথে জড়িত রয়েছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক। 


মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ত্বকীসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার চাই। আমরা জানি ওই বিচারে আসামী হিসেবে কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে শামীম ওসমানকে। তার নির্দেশে ত্বকী হত্যা হয়েছে। আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করে জবানবন্দী আদায় করা হলে শামীম ওসমান ত্বকী হত্যার মূলে। শামীম ওসমানের পায়ের তলায় মাটি নেই বলে তিনি প্রশাসনকে সমাবেশ করে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।


নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, প্রশাসন জানে যে, ত্বকীকে কারা কিভাবে হত্যা করেছে। আর আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ একটা দাবি রাখি যে, ত্বকী হত্যার বিচার করা হোক। ইতিমধ্যেই আমাদের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বলেছেন, ত্বকীর মতো আর কউকে নারায়ণগঞ্জে হত্যার শিকার হতে হবেনা। আমরা এর জন্য তাঁদের সাধুবাদ জানাই এবং পাশাপাশি ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি করছি। 


সিপিবির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের অমলে সারাদেশে অংখ্য খুন, ধর্ষন এবং বিভিন্ন প্রকারের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এবং এর মধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আনেকগুলির বিচার কাজ সংগঠিত হয়েছে। 


শুধু তাই নয় আমাদের দেশে এমপি মন্ত্রীদের যদি আমরা কুটুক্তি করি ও গালি দেই তাহলে আইন পরিবর্তন করে তাৎখনিক আমাদেরকে গ্রেফতার করার ব্যবস্থা আইনে আছে। অথচ আমাদের এই নারায়ণগঞ্জে ত্বকীকে হত্যা করেছে আজমেরী ওসমানের নাম ১৬৪ ধারায় জাবানবন্দী দেওয়ার পরেও এই আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়না। আমরা নারায়ণগঞ্জ বাসীকে আহব্বান জানাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি জানাই। 


খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী বলেন, শোনা যাচ্ছে ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার এই প্রশাসন চাইছে। এই কারণে একজন সাংসদ বড়বড় সমাবেশ করে প্রশাসনকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তাঁদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন অচিরেই ত্বকী হত্যার বিচার করবে।


নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় এই মোমশিখা কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন, সমমনা সভাপতি দুলাল সাহা, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর