মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা কেড়েছে হাসি

আশঙ্কাতেও বসতে চায় হকাররা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২০  

আইলো রে পুলিশ আইলো’। এমন হাঁকডাকে দোকানপাট গুছিয়ে ছোটাছুটি শুরু করে হকাররা। দৃশ্যটি বুধবার বিকেল ৪টায় চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতের। ফুটপাতের দোকানীরা  দোকান গুটিয়ে ছুটছে-পেছনে পুলিশের গাড়ি। মূহুর্তেই খালি হয়ে যায় ফুটপাত। আবার পরক্ষণেই বসে যাচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে ক্রেতারা হাঁটা ধরেছে অন্যদিকে।

 

করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় গত ৭ এপ্রিল লকডাউন ঘোষণার দীর্ঘ এক মাস পর  খুলতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলো। একই সাথে ফুটপাতে বসতে শুরু করেছে হকাররাও। কিন্তু করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে  কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশের তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের।

 

ফলে একদিকে করোনাভাইরাসের আশঙ্কা ও অন্যদিকে এমন পরিস্থিতি কেড়ে নিয়েছে হকারদের মুখের হাসি। করোনায় আক্রান্তের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ফুটপাতে বসতে চায় হকাররা। কিন্তু প্রশাসন কঠোর। মানুষ হুশিয়ার।


ফুটপাত ব্যবসায়ী মামুন মিয়া জানান, আমরা হইলাম দিনমজুরের মত। আমাগো ব্যবসা দিন আনি দিন খাইয়ের মত। বেচাকেনা থাকলে কয়টা খাইতে পারমু না করলে পেট মাটিত দিয়া ঘুমাইয়া থাকুম।

 

এই এই দেড় মাস যে কেমনে চলছি আল্লাহ আর আমার পরিবার জানে। বাসা ভাড়া তিন মাসের জমছে। কোনদিন বাড়িওয়ালা আইসা বাড়িভাড়া খুঁজবো সে চিন্তায় ঘুম আসে না। আবার সামনে ঈদ পোলা মাইয়া তো করোনা বুঝে না আমরা না নিলেও ওগো তো কিছু দিতে হইবো। হাতে আর কয়টা দিন আছে। আল্লাহ জানে কি আছে নছিবে।


একই অবস্থা ২ নং রেল গেটের ফল ব্যবসায়ী আলীম হাজির। ৫০ হাজার টাকার ফল নিয়ে একমাস আগে দোকানটা মাত্র চালু করছে। তার মধ্যেই লকডাউনে দোকানে মাল রেখেই বাড়ি ছুটতে হয়েছে। কয়েকদিন আগে দোকানে এসে দেখে ফলের প্রায় অধিকাংশ পঁচা গলা। যা বিক্রি করেছে তা নিয়েই  বসেছে এখন।


আলীম হাজী জানান, লকডাউনের মাত্র এক মাস আগে ব্যবসায়টা শুরু করছি। কিন্তু কি ভাগ্য এর মধ্যেই করোনা আইসা পড়লো। নছিবে না থাকলে যা হয় আর কি। এখন যা আছে তা নিয়ে শুরু করছি। কিন্তু কার কাছে বিক্রি করবো মানুষ তো খাইতেই পায় না। ফল নিবে কোথা থেকে।


মন্ডলপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে দেখা যায় হকারদের মেলা। করোনাকে ডোন্ট কেয়ার করে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। মসজিদের সামনে মসলার পসরা সাজিয়ে বসে আছে  ষাটোর্ধ্ব হাকিম আলী। তিনি জানান, বসছি দেখি কাস্টমার আয়ে নি। একটু পরে আজান দিয়া দিলে উঠাইয়া দিব। ততক্ষণে কতদূর বেঁচতে পারি। একমাস তো কোনোরকম চললাম। আর তো চলে না মা। পেট তো আর মানে না।

এই বিভাগের আরো খবর