সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

আ’লীগ নয় ওসমানলীগের কমিটি!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২২  

# পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই অপচেষ্টা : আনোয়ার হোসেন
# শামীম ওসমানই ভালো জানে এসব কিসের কমিটি : আবদুল হাই

 

এমপি শামীম ওসমানের পুরনো সেই জৌলুস আর নেই। একসময় যে শামীম ওসমানের ডাকে লাখো কর্মীর যে উচ্ছাস ছিল এখন সেসবকিছুই এখন অতীত। শামীম ওসমান এখন ক্ষয়িষ্ণু রাজনীতিবিদ বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতারা। সম্প্রতি শামীম ওসমান  সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর হুট করে বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় ডাকা কর্মীসমাবেশে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

তবে এসব কমিটি করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোন নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। শামীম ওসমান মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য। এসব কমিটি করার ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছ থেকে কোন ধরণের পরামর্শও গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, শামীম ওসমান যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ৫০১ জনের কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছে সেসব আসলে ভিন্ন উদ্দেশ্যে, এখানে আওয়ামী লীগের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

আনোয়ার হোসেন বলেন, একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যাবে, এর নেপথ্যে রাজাকার পুত্র কলকাঠি নাড়াচ্ছে। ১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগের যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল, এখন আবার সেই অবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে তারা। সত্যিকারের আওয়ামী লীগের কর্মীরা যাতে দলে থাকতে না পারে, কাছে ঘেঁষতে না পারে সেজন্যই তাদের এই অপপ্রয়াস। সবজায়গায় আওয়ামী লীগের বদলে ওসমানলীগের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তারা ।

 

ওসমান পরিবার যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য সেসব কর্মীসভায় হাইব্রীড পরগাছাদের ওসমান লীগের ঢুকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  ফতুল্লায় নামধারী আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর, বন্দরে সন্ত্রাসী  খান মাসুদের মতো ব্যক্তিগুলোকে তারা তাদের এই ওসমান লীগের কমিটিতে রাখছে। মহানগর আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হিসেবে তিনি মহানগর এলাকায় এসব করতে পারেননা। আসলে মূল বিষয় হলো সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওসমান পরিবারের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে, যারা কারণে ওসমান লীগের এই প্রয়াস।

 


জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগে এভাবে কমিটি করার নজির নেই। তাছাড়া এমপি শামীম ওসমান মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি জানে কিনা আমার জানা নেই। আর এসব কিসের কমিটি করার নির্দেশনা দিচ্ছেন শামীম ওসমান তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’  


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র রয়েছে, সেগঠনতন্ত্র অনুযায়ী সুন্দর করে ওয়ার্ড কমিটি হবে। কিন্তু শামীম ওসমান কিসের কমিটি করবেন সেটা উনার ব্যাপার। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মিডিয়া প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

 

এড. দিপু বলেন, সিটি নির্বাচনের সময় চারটি অংঙ্গসংগঠনের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে, নতুন কমিটি হবে। উনারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এতোদিনেও মহানগরের ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি করা হয়নি। আমাদের কথা হচ্ছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, থানা, উপজেলা, থানা, জেলা কমিটিগুলো হবে। কেউ যদি নিজের মনের মতো করে কমিটিগুলো করতে চায় এটা উনার ব্যাপার।


জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, সেখানে আওয়ামী লীগের কর্মীসভা হবে অথচ জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তা জানেই না। তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের কর্মীসভা কি করে হয়। তার কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন? তা হলে সেটা কি করে আওয়ামী লীগের কর্মীসভা হয়। তিনি বলেন, এটা শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত কর্মীসভা।

 

তিনি যখনই কোন কোন ইয়ে পড়ে তখনি সেটা ঢাকার জন্য সে তাড়াহুড়ো করে একটা কর্মীসভার ব্যবস্থা করে। সেটা কর্মীদেরকে চাঙ্গা রাখার জন্য। যখন তার অপকর্মগুলো লোকালয়ে প্রকাশ হয়ে যায়, তখন সে এটাকে এ ধরণের ব্যবস্থা করে। অগেও সে এধরণের কাজ করেছে, এখনও করছে। সে বলছে সে ৫০১ জনের কমিটি গঠর করবে।

 

’৯৭ সালেও সে এরকম কথা বলছিল। তিনি বলেন, বাঁশিও বাজবে না, রাধাও নাচবে না। ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিও থাকবে না, তার পকেটেই থাকবে। তিনি বলেন, একথা তার মুখেই থাকবে, আর এ কাগকগুলো তার পকেটে থাকবে। তাদের অপকর্মগুলো যখন লোকালয়ে প্রকাশ পায়, জনগণ যখন জেনে যায়, তাদের অপকর্ম, তারা কোথা থেকে সম্পদ বানালো, এত টাকার মালিক কি করে হলো।

 

জনগণ এখন জানতাছে, তাই এগুলোকে ঢাকার জন্য সে একটি কর্মীসভার ব্যবস্থা করে। সেখানে সিনিয়র কোন নেতা থাকে না। যখন দেখা গেছে তার বলয়ের কমিটিগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, তার এতদিনের রাজপ্রাসাদ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, তারা যখন হতাশ হয়ে পড়েছে, তখন তাদেরকে চাঙ্গা রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা। তিনি বলেন, সে কমিটির জন্য বা পদের জন্য রাজনীতি করেন কি না তা জনগণ জানে।

 

তাহলে কিসের জন্য রাজনীতি করে? সে কি জনগণের জন্য কিছু করেছে? সে তার জনগণের জন্য কোথায় কোথায় কি কি উপকারে এসেছে। তার এলাকায়ই ডিএনডি বাধ।

 

এই যে বর্ষা আসছে, এই সময় তার এলাকার মানুষই জলে বাস করে। সেটাই সে এপর্যন্ত ঠিক করতে পারেনি। তারা দুর্ভোগ পোহায়। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান মনে করেন, শামীম ওসমান তার বক্তব্যে যে রেশ পাওয়া যাচ্ছে এটা হচ্ছে বিরোধীদলকে প্রতিহত করার চেয়ে আত্মকোন্দলে নিজেকে বেশি নিয়োজিত করছেন।    

এই বিভাগের আরো খবর