সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

আতঙ্কে থাকা বিএনপি নেতাদের সামনের পথ কি হবে

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৪  

 

সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনের আগে একটানা আন্দোলন করেছে বিএনপি। নির্বাচনের এক বছর আগে থেকে তৃনমুল নেতা কমীদের ঐক্যবদ্ধ করে মাঠ পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করেছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকার নিকটতম জেলা নারায়ণগঞ্জ হওয়ায় এখানকার বিএনপি নেতা কর্মীরাও রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছে।

 

বিশেষ করে নির্বাচনের দিন এবং আগের হরতাল বাস্তবায়নে ভুমিকা পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। তবে নির্বাচনের আগে রাজপথে যে শক্তি সঞ্চার করেছে তা এখন আর নেই। তা ফিরে পাবে কি না তা নিয়ে রয়েছে ধোয়াশা। তবে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা জেলা মহানগর সহ হাই কমান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কেননা তাদের আন্দোলনে তেমন কোন রেজাল্টা আসে নাই।

 

এদিকে বিএনপির টানা কর্মসূচির শুরুটা ২০২২ সালের অগাস্টে শুরু হয়। তখন শুরুতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ। তারপর এলো রোডমার্চ। নির্বাচনের আগের দুই মাসে কখনো হরতাল, কখনো অবরোধ। আবার কখনো হরতাল-অবরোধ দুটোই। কিন্তু নির্বাচনের পরে নতুন করে আর বড় কোন কর্মসূচি নেই। তবে ‘ভোট বর্জন করায়’ বিচ্ছিন্নভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সাধারণ মানুষকে ফুল দিয়ে ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এছাড়া ভোটারদের প্রতিকৃজ্ঞতা প্রকাশ করে লিফলেট বিতরণ করেছে ভোট বর্জন করায়।

 

অপরদিকে নির্বাচনের আগে মামলার কারনে দলটির নেতা-কর্মীদের বড় অংশই একরকম আত্মগোপনে রয়েছে। নির্বাচনের আগে ২৮শে অক্টোবর ঢাকায় দলটির সমাবেশকে ঘিরে সহিংতার পর থেকেই এ অবস্থা। যার রেশ আছে নির্বাচনের পরও। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতারাও এর থেকে রক্ষা পান নাই। বিশেষ করে এখনো পর্যন্ত মামলা এবং গ্রেপ্তার আতংকে এলাকায় ফিরছেন না অনেকেই। এমন অবস্থায় নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর কথা বলছে বিএনপি। মামলা হামলায় আত্মগোপনে থাকা নেতা কর্মীদের কি বিএনপি উজ্জীবিত করতে পারবে।

 

সুত্রমতে, সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে বর্জন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি এমনটাই দাবী করছে দলীয় নেতা কর্মীরা। কেননা বিএনপির দাবী এই সরকার ক্ষমতায় থেকে যে নির্বাচনই দেক না কেন তা কখনো সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হবে না। এজন্য তারা এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যান নাই। তাছাড়া সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচন পশ্চিমাদের কাছে 'প্রশ্নবিদ্ধ'। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে।  আন্দোলন নিয়েই বা বিএনপির সামনে কী পথ আছে -এসব প্রশ্নও এখন উঠছে।

 

দলীয় নেতারার জানান, নির্বাচন হয়ে যাবার পর সামগ্রিক যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে করে রাজনীতির প্রতিই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে। তাছাড়া ১৭ বছর পেরিয়ে এবার ক্ষমতায় থাকলে ২২ বছর হতে যাচ্ছে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতা কর্মীরা কি দেখে রাজপথে উজ্জীবিত থাকবে। কারণ হিসেবে কয়েক জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যেভাবে ‘হেনস্থা’ করে তাতে করে সম্মান নিয়ে রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় থাকা এবং কাজ করাটাই কঠিন হয়ে গেছে।

 

নারায়ণগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও গ্রেফতার আতঙ্কে দলটির আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীরা সেভাবে প্রকাশ্যে আসছেন না। যারা প্রকাশ্যে আসছে তারাও কয়েকজন আইনজীবি হওয়ায় জামিন নিয়ে আদালত পাড়ায় রয়েছে। অন্য সময় তাদের তেমন দেখা যায় না। দলের নেতারা কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন।

 

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খানের মতে, এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায় নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের মতো করে একটা একতরফা নির্বাচন করে নিয়েছে। সরকার বাকশালের বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। বিএনপি’র নেতারা অবশ্য দাবি করছেন দল চাঙা আছে। দলীয় হাই কমান্ড যে কোন কর্মসূচি দেয়া হয় আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

 

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা জেলে ছিলো, কিন্তু ভোট বর্জনের আন্দোলন সফল হয়েছে। জনগণ ভোট বর্জন করেছে। যেখানে জনগণ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ভোটে যায় নাই, সেখানে আমরা সফল হয়েছি। তবে বিএনপি নির্বাচনের পরে নতুন কোন কর্মসূচি দেয়নি। জোর দিচ্ছে, কর্মসূচিতে যাওয়ার আগেই যত বেশি সম্ভব নেতা-কর্মীদের জামিনে মুক্ত করার উপর।

 

আগে নির্বাচনের বছরে দলটি ধারাবাহিকভাবে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, রোডমার্চ করেছে। শেষ পর্যায়ে এসে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিও পালন করেছে। সেই সময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হলেও বিএনপি তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু ঘটনা যেটাই হোক, বিএনপির এসব কর্মসূচিতে দাবি আদায় হয়নি, সরকারেরও পতন ঘটেনি। এমনকি নির্বাচনও হয়ে, নতুন সরকার এখন দেশ পরিচালনা করছে।

 

“মানুষ হয়তো প্রত্যাশা করেছিলো বিএনপির আন্দোলনের চাপে এই সরকার বিদায় নেবে। কিন্তু বিদায় তো নেয়নি তারা এখন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করছে। কিন্তু এটাও ঠিক একটা স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় দেয়া এটা তো সহজ কোন সংগ্রাম নয়। এটা কঠিন। এবং অনেক সময় দীর্ঘ সময় লাগে। বিএনপি সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন উদ্যোমে আবার মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে।

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন জানান, আমরা সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা-বিশ্লেষণ করছি। অবাস্তব বা কল্পিত চিন্তার মাধ্যমে আন্দোলনকে পরিচালিত না করে এখনকার বাস্তবতাকে নিয়েই আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা হবে।” এস.এ/জেসি

         

এই বিভাগের আরো খবর