সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

আকবর নগর ফের রণক্ষেত্র, আহত ৭ : ফাঁকাগুলি, টিয়ারশ্যাল নিক্ষেপ

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লার বক্তাবলীর আকবর নগর এলাকা ফের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকমাস শান্ত থাকার  সোমবার দুপুরে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজীর লোকজনদের লোকজনদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রহিম হাজী মিলন, সিয়াম, এরশাদ ও সামেদ আলীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। সংঘর্ষে পুরুষসহ কমপক্ষে ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০ টি টেঁটা,রাম দা উদ্ধার করেছে।

সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর দুই পক্ষ সংঘর্ষের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট, এক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। এসময় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয়রা।

সোমবার রাতে দুই পক্ষ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছে থানা সূত্র। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, রহিম হাজী ও হামিদের ইট ভাটার মাঝামাঝি জমিতে শহীদুল্লাহ নামের এক ব্যাক্তির অস্থায়ী দোকান রয়েছে। দোকানটি বেশ কয়েকমাস যাবৎ পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে আছে। সোমবার সকালের দিকে রহিম হাজীর পক্ষের লোক শহীদুল্লাহ তার দোকান ঘরটি ভেঙ্গে আনতে সেখানে যায়।

এসময় সামেদ আলীর পক্ষের লোকজন দোকান ঘরটি ভাঙ্গাতে শহিদুল্লাহকে বাধা দেয়। শহীদুল্লাহ বিষয়টি রহিম হাজীকে জানায়। রহিম হাজী ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরই সামেদ আলীর লোকজন তাকে মারপিট করে।

এ খবরে রহিম হাজীর লোকজনের কাছে আসার পরই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রুপ নেয়। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। বেলা ১২ টার দিকে পুলিশ ঘটনা স্থলে যায়। এসময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষের চেষ্টা করলে পুলিশ ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে বলে নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে সামাদ আলীর লোকজন রহিম হাজীকে মারধর করে। এসময় খবর পেয়ে রহিম হাজীর লোকজন গিয়ে সামেদ আলীর বাড়ি ঘর ঘেরাও করে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, আকবরনগর এলাকায় সামাদ আলী ও রহিম হাজী পৃথক দুটি বাহিনী তৈরী করে চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রায় সময় সংঘর্ষে বাড়ি ঘরে আগুন দেয়াসহ হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

আর এসব সংঘর্ষের ভয়ে আকবরনগর এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। সবশেষ গত বছরের ৯ আগষ্ট দুই পক্ষের সংঘর্ষে জয়নাল নামে এক ব্যক্তি টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় তারা সম্পৃক্ত প্রমাণিত হওয়া এদেরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর