শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আইভী-শামীম বিরোধের নেপথ্য কারণ অন্বেষণ

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : তাঁরা দুজনই একই দল আওয়ামী লীগ করেন। জনসমক্ষে পরষ্পর পরষ্পরকে বড় ভাই ও ছোট বোন বলে সম্বোধন করেন। 


তারপরও তাদের মধ্যে দা-কুমড়োর সম্পর্ক। কেন তাঁরা একজন আরেকজনকে সইতে পারেন না। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জের প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ এমপি শামীম ওসমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রিয় মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। 


তবে, কি কারণে তাদের দুজনের সম্পর্ক এ জটিলাকার ধারণ করলো, এর নেপথ্য কারণই বা কি? তা এখনো সঠিক নির্নিত হয়নি। গতকালও দুজনের এ জটিল সম্পর্ক ও এর নেপথ্য কারণ নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতা দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মূলতঃ একই দলের দু’নেতার বিবাদ আবর্তিত হলেও দলের স্বার্থে তা মিটিয়ে ফেলে একত্রে বসার একটি গণতান্ত্রিক রীতিও রয়েছে। 


কিন্তু আইভী-শামীমের ক্ষেত্রে এ রীতি কার্য্যকর নয়। মনোনয়নের প্রতিযোগিতা তাদের মাঝে একটি স্থায়ী ব্যক্তিগত শত্রæতা সৃষ্টি করেছে। তাদের মাঝে সম্পর্কের এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, একত্রে বসা দূরে থাক, তারা পরষ্পরকে সহ্যও করতে পারেন না।


এমন অবস্থা সৃষ্টির পেছনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেয়র আইভীর ত্বকী হত্যার বিচার দাবী আন্দোলনে সম্পৃক্ততাকে দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘আমি ত্বকীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারি না’, মেয়র আইভীর এ বক্তব্যই দুজনের মাঝে এ অচলাবস্থা সৃষ্টির কারণ। এ প্রতিবেদনের একটি বিশাল অংশ জুড়ে ত্বকী হত্যা টেনে উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘এ হত্যাকান্ডই দু’পরিবারের মাঝে ন্যূনতম ঐক্য সৃষ্টির পথে প্রধান দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’


এ ব্যাপারে শহরের একাধিক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আইভী অনেক পরিপক্ক নেতা। তিনি দীর্ঘ হোমওয়ার্ক শেষে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক ডিজাইন নির্মাণ করেন এবং সেই ডিজাইন মাফিক তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যান। কোন প্রকার হঠকারিতা বা স্ট্যান্টবাজি তাঁর চরিত্রে নেই। 


এসব জিনিষই মূলতঃ শামীম ওসমানের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। রাজনীতিতে আইভী ও শামীম দুজন দু’টি ধারাকে অনুসরণ করেন। তাদের পথ কিছুটা বিপরীতধর্মী। তবে, ত্বকী হত্যা বা ত্বকী মঞ্চের সঙ্গে আইভীর সম্পৃক্ততা এ বৈরীতার দেয়ালকে স্থায়ী করেছে, এ বক্তব্য সঠিক নয়। 


‘আমি ত্বকীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারি না’ আইভীর এ বক্তব্যের মাঝে অনেকে তাঁর কিছুটা অসহায়ত্বও ফুট উঠেছে বলে মনে করছেন। কারণ, বলা হচ্ছে ত্বকীকে নাকি হত্যা করা হয়েছে তার পিতা রফিউর রাব্বির দোষে। 


রাব্বিকে শাস্তি দিতেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়। রাব্বির দোষ, তিনি ২০১১ এর নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আইভীর প্রধান সমন্বয়কারি ছিলেন। সে নির্বাচনে শামীম ওসমানের পরাজয়ের জন্য রাব্বিকে দায়ী করে তাকে শাস্তি দিতেই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছিল। ত্বকী হত্যার বিচার দাবী থেকে আইভীর পিছিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করা যায়না। 


একজন প্রবীণ নেতার অভিমত, মেয়র আইভী অত্যন্ত পরিপক্ক রাজনীতিবিদ। তিনি হয়তো জানতেন, ওসমান বলয়ে প্রবেশ করলে সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারবেন না। 


আর, ওসমান বলয়ে সম্পৃক্ত হলে আর এ শহরে স্বাধীনভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন না। হয়, এড. আনিসুর রহমান দিপুর মতো আত্মসমর্পন করতে হবে, নয়তো বাদল, খোকন সাহা বা চন্দন শীলের মতো আজীবন বনসাই বা বামন (বেটে) হয়ে থাকতে হবে। 


কারণ, ওসমানরা এ শহরে বহু নেতা বানালেও তাদের সৃষ্ট নেতৃত্বে একটি সেফটি ভাল্ব লাগানো থাকে। যেন, তারা ওসমানদের ছাড়িয়ে যেতে না পারেন। আইভী তা আগেভাগে জানতেন। তাই ওসমান বলয়ের ছায়াও  মাড়াননি, হীরামহলেও কখনো হাজিরা দেননি। 

শেষ মুহুর্তে ওসমান বলয় ত্যাগে সমর্থ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনও এ সত্য টের পেয়েছেন। শেষ মুহুর্তে ওসমানদের ত্যাগ করে স্ব মহিমায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছেন গুরুজী।
 

এই বিভাগের আরো খবর