বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

অয়ন ওসমানের সম্বন্ধী ভিকি গ্রেপ্তার (আপডেট)

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) ভিকিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভিকি ব্যবসায়ী ফয়েজউদ্দিন আহমেদ লাভলুর ছেলে।  

 

ফতুল্লা মডেল থানায় কামাল হোসেন (২৬) নামে এক সিএনজি ড্রাইভারের দায়ের করা মামলায় ভিকিকে শনিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাসদাইর এলাকার নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিবি’র পরিদর্শক এনামুল হক জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে চাষাঢ়া মোড় এলাকায় কামাল হোসেন (২৬) নামে এক সিএনজি চালককে বেধড়ক মারধর করে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যায় ভিকি। এঘটনায় ওই সিএনজি চালক ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে সন্ধ্যায় তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

 

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, যানবাহন ভাঙচুর, ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি, সন্ত্রাসী মহড়া এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ এনে এক সিএনজি ড্রাইভার ওই মামলাটি (১০৬-৩১/৮/১৯) দায়ের করেন।   

 

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার পাঁচগাঁও এলাকার মৃত সুলতান শেখের ছেলে কামাল হোসেন (২৬) ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, সাইনবোর্ড থেকে মুন্সিগঞ্জ মুক্তারপুর রোডে সিএনজি চালান। ৩০ আগস্ট রাতে পৌনে ১২টার দিকে মুক্তারপুর হতে যাত্রী নিয়ে সাইনবোর্ডের দিকে আসারর পথে ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত ১২ টা ৩৫ এর দিকে রাইফেলস ক্লাবের বিপরীত পার্শ্বের রাস্তায় পৌঁছালে মিনহাজ উদ্দিন ভিকিসহ আরো ৩/৪ জন তাদের প্রাইভেট কার দিয়ে কামালের সিএনজি (নারায়ণগঞ্জ-থ-১১-৩৪০৯) এর গতিরোধ করে ধাক্কা দেয়। এসময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভিকিসহ অন্যানরা প্রাইভেটকার হতে নেমে দলবদ্ধভাবে শক্তি ও দাপট এবং বেআইনী বলপ্রয়োগ প্রদর্শন করে, ভয়ভীতি, আতঙ্ক এবং ত্রাস সৃষ্টি করে হকিস্টিক ও লোহার রড এবং লাঠি দিয়ে কামালের সিএনজির সামনের গ্লাস এবং সিএনজির বিভিন্ন অংশের ভাংচুর করে। এসময় সেখানে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় আনুমানিক ৪৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া ভিকি সিএনজি চালক কামালকে সিএনজি থেকে জোর করে টেনে হেচড়ে নামিয়ে হকিস্টিক, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাথারিভাবে পিটিয়ে তার নাকে হাড় ভেঙে ফেলে এবং বাম পায়ের গিড়ার নিচে ও হাটুর উপড়েরসহ বাম চোখে আঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা, গুরুতর জখম করে। যার প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিকির বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলাও রয়েছে (নং-২৯-১৯/৬/১৯) । মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও ভিকি বিভিন্ন সময় অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রভাব বিস্তার করে ভূমিদস্যুতার দরুণ ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটি মামলাও (নং-(৯৬)/ ৩/ ১৯) বিচারাধীন রয়েছে। ভিকি একটি বিশেষ পরিবারের ঘনিষ্ট আত্মীয় হওয়ায় তার ইচ্ছামত চলাফেরা করতো। তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ সাহস পেতনা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর