পাকিস্তানের কাছে হেরেই গেলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ১৯ নভেম্বর ২০২১

পাকিস্তানের কাছে হেরেই গেলো বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও আশা জেগেছিল বোলারদের দুর্দান্ত শুরুতে। একটা সময় জয় মনে হচ্ছিল খুব দূরে নয়। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পরও নিজেদের শক্তি দেখালো পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসা বাবর আজমদের কাছে এবার ঘরের মাঠে ধরাশয়ী বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।

আজ (শুক্রবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করে ১২৭ রান। এই সংগ্রহ নিয়েও লড়াই করে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল মাহমুদউল্লাহরা। তবে শেষ দিকে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় ৬ উইকেট হারানো পাকিস্তান ৪ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-০তে এগিয়ে গেলো সফরকারীরা। সমান্তরালে টানা ছয়টি টি-টোয়েন্টি হারলো বাংলাদেশ। 

১৮ বলে দরকার ছিল ৩২ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব একটা কঠিন সমীকরণ না হলেও মিরপুরের উইকেটে মিলিয়ে দেওয়া সহজ ব্যাপার ছিল না। তার ওপর বোলিংয়ে আসেন প্রথম ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু শুরুতে চমৎকার বল করা এই পেসারই বড় ধাক্কাটা দিলেন। ১৮তম ওভারে ‘ফিজ’ খরচ করলেন ১৫ রান। ফলে জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ১৭।

বোলিংয়ে আসা শরিফুল প্রথম দুই ডেলিভারি ঠিকঠাক করলেও তৃতীয় ও পঞ্চম বলে খেলেন দুই ছক্কা। ম্যাচ হাতের মুঠোয় নেওয়া পাকিস্তানের শেষ ওভারে দরকার পড়ে মাত্র ২ রান। গোটা ম্যাচে একবারের জন্যও বোলিংয়ে না আসা আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে জয় এনে দেন শাদাব খান।

২৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর সফরকারীরা ম্যাচে ফেরে ফখর জামান (৩৪) ও খুশদিল শাহের (৩৪) জুটিতে। এই দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ স্বস্তি ফেরালেও শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজের ঝড়ে আবারও হারের হতাশায় ডুবতে হয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। শাদাব ১০ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। আর নওয়াজ ৮ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। এই পেসার ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। শেখ মেহেদী হাসান ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় পান ১ উইকেট। তার মতো একটি করে উইকেট শিকার মোস্তাফিজুর রহমান (১/২৬) ও শরিফুল ইসলামের (১/৩১)।

রিজওয়ানের স্টাম্প ওড়ালেন মোস্তাফিজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ফর্মে থাকা এই ওপেনারকে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দিলেন না মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন রিজওয়ান।

দুর্দান্ত ডেলিভারিতে রিজওয়ানের স্টাম্প ওড়ালেন মোস্তাফিজ। সুইং করে ভেতরে ঢোকা বল বুঝতেই পারেননি পাকিস্তানি ওপেনার। বল সরাসরি অফ স্টাম্পে আঘাত করলে উড়ে গিয়ে পড়ে অনেকটা দূরে। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ১১ বলে ১ বাউন্ডারিসহ ১১ রান করেন রিজওয়ান।

বাবরকে বোল্ড করলেন তাসকিন

মোহাম্মদ রিজওয়ানকে স্টাম্প উড়িয়ে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন আহমেদই বা কেন চুপ থাকবেন! ডানহাতি পেসার বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়েছেন বাবর আজমকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নেপথ্যে দুই ওপেনার বাবর ও রিজওয়ানের ব্যাটিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরালেও মিরপুরে অন্যরকম কিছু বরণ করতে হলো তাদের। বিশেষ করে, রানের ফোয়ারা ছোটানো বাবরকে আউট করা সবচেয়ে বড় সাফল্য। পাকিস্তানি অধিনায়ককে অল্পতে আটকে রেখেছেন তাসকিন।

এই পেসারের লাইনে থাকা বল বাবরের ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। ফলে মাত্র ৮ রানে শেষ হয় পাকিস্তান অধিনায়কের ইনিংস। ১০ বলের ইনিংসটিতে ছিল একটি চারের মার।

সোহানের দুর্দান্ত থ্রোতে মালিকের বিদায়

দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। ২৪ রান তুলতে টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারিয়েছে সফরকারীরা। সবশেষ নুরুল হাসান সোহানের বুদ্ধিদীপ্ত থ্রোতে রান আউট হয়ে ফিরে গেছেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রয়োজনের সময় দারুণ সব ইনিংস খেলেছেন মালিক। বাংলাদেশের বিপক্ষেও তার ব্যাটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনেক। কিন্তু সোহান সেই সুযোগটাই দিলেন না অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। রানের খাতা খোলার আগেই রান আউট হয়ে ‍ফিরতে হয়েছে মালিককে।

ষষ্ঠতম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের শেষ ডেলিভারিতে স্ট্রাইকে ছিলেন মালিক। বল ঠিকঠাক খেলতে না পারায় চলে যায় উইকেটকিপার সোহানের কাছে। মালিক ক্রিজের বাইরে আছেন দেখে স্টাম্প বরাবর থ্রো করেন সোহান। দাগের কাছাকাছি থাকলে থ্রো আসার আগে ব্যাট মাটিতে প্লেস করতে পারেননি। থার্ড আম্পায়ার বেশ কিছুক্ষণ দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৩ বল খেললেও রান করতে পারেননি মালিক।

তার আউটের ঠিক ৬ বল আগে পাকিস্তান হারায় হায়দার আলীর উইকেট। এই ব্যাটারও খুলতে পারেননি রানের খাতা। শেখ মেহেদী হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান তিনি। রিভিউ নিয়েও শেষরক্ষা হয়নি।

ফখরকে থামিয়ে স্বস্তি ফেরালেন তাসকিন

প্রথম বলেই বাউন্ডারি হজম করলেন তাসকিন আহমেদ। তবে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নিলেন না। পরের বলেই ফখর জামানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখালেন ডানহাতি পেসার। তার ব্রেক থ্রুতে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ ক্যাম্পে।

২৪ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে পথ দেখান ফখর। খুশদিল শাহকে সঙ্গী করে ইনিংস গড়ার কাজে লাগেন তিনি। চমৎকার ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলে। অবশেষে তাকে থামালেন তাসকিন। ডানহাতি পেসারের নিচু ধাঁচের ওয়াইড ডেলিভারি বাঁহাতি ব্যাটারের ব্যাট ছুঁয়ে গেলে গ্লাভসবন্দি করেন নুরুল হাসান সোহান।

ফেরার আগে ফখর ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারিতে খেলে যান ৩৪ রানের ইনিংস। আর খুশদিলের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৫৬ রানের জুটি। এরপর খুশদিল ফিরলেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি পাকিস্তানের। শাদাব-নওয়াজের তাণ্ডবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরলো পাকিস্তান।

ব্যাটিংয়ে সেই বাংলাদেশের ছবিই ফুটে উঠলো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর প্রথম ম্যাচ। ‘বদলের ডাক’ শুনিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশায় ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। কিন্তু ব্যাটিংয়ে সেই বাংলাদেশের ছবিটাই তো ফুটে উঠলো! কুড়ি ওভারের বিশ্ব আসরের পর টপ অর্ডারের ব্যর্থতার গল্পই নতুন করে সামনে এলো। তারপরও মিডল ও লোয়ার অর্ডারের পারফরম্যান্সে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় মাহমুদউল্লাহরা।

আজ (শুক্রবার) পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৭ রান করেছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আহামরি সংগ্রহ না হলেও মিরপুরের এই স্কোরই আশা জাগানিয়া ছিল। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই সিরিজই তার প্রমাণ!

তবে এবারের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। স্পিন ও স্লো উইকেটে যাদের খেলা নিয়মিত। সেদিক থেকে চিন্তা করলে বোলারদের জন্য পর্যাপ্ত রানের ব্যবস্থা করতে পারলেন কই বাংলাদেশের ব্যাটাররা। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকা পড়েছিল বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থ টপ অর্ডার।

লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিমকে বাদ দিয়ে যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের কেউই কিছু করতে পারেননি। অভিষিক্ত সাইফ হাসান ১, নাঈম শেখ ১ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৭- এই হলো টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের পারফরম্যান্স। হতাশ করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও (৬)। তারপরও রান ১২৭ পর্যন্ত গিয়েছে আফিফ হোসেন (৩৬), শেখ মেহেদী হাসান (৩০*) ও নুরুল হাসান সোহানের (২৮) কার্যকর তিন ইনিংসে।

পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার হাসান আলী। ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় ২ উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ।