গণতন্ত্রের সম্মেলন নিয়ে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচন

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২৮ নভেম্বর ২০২১

গণতন্ত্রের সম্মেলন নিয়ে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচন

‘বিশ্বের দুর্বল গণতন্ত্রের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গণতান্ত্রিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা বলছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। তার বক্তব্য গণতন্ত্র নিয়ে বিশ্বের জন্য নতুন পাঠ্যবিষয় হতে পারে। রবিবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম বিল-২০২১’ নিয়ে জনমত যাচাই-বাছাইয়ের ওপর আলোচনায় এসব কথা বলেন সংসদ সদস্যরা। এর আগে জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে সংসদে কথা বলেন বিএনপির হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, তা কি কোনও উত্তর হলো? দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এটা উপযুক্ত উত্তর নয়। উত্তর দায়িত্বশীল নয়।’যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘যেসব দেশ গণতন্ত্রের দিক থেকে দুর্বল, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের ডাক দিয়েছে। তারা দুই পর্বে সম্মেলন করবে বলেছে। প্রথমে কয়েকটি দেশ যারা গণতান্ত্রিক দিক থেকে খুবই দুর্বল তাদের নিয়ে। আমাদের বাদ দিয়েছে সেটা আমি বলি না। হয়তো পরে তারা আমাদের বলবে।’ বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা হচ্ছে— আমেরিকার গণতন্ত্রের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দুর্বল গণতন্ত্রের দেশগুলোকে। আমরা এতদিন জানতাম, পৃথিবীর সবচেয়ে উদার গণতন্ত্রাতিক দেশের তালিকা করলে পশ্চিম ইউরোপ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো থাকবে। এখন আমরা বুঝলাম, তাদের দেশের গণতন্ত্র দুর্বল। কারণ, এরা এ সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়েছে। ঠিক যেভাবে আমন্ত্রিত হয়েছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপান। এ দেশগুলোকে উন্নত গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে জানি।’ তিনি বলেন, ‘‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়া যদি শক্তিশালী গণতন্ত্রের ‘লিটমাস টেস্ট’ হয়। তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশের উদাহরণ হচ্ছে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, তুর্কমেনিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশ। চীন, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, সোমালিয়া, কঙ্গোসহ আফ্রিকার প্রায় সকল দেশ। গণতন্ত্র নিয়ে সারাবিশ্বের সম্ভবত আবার নতুন করে পাঠ করার সময় এসেছে।’’ রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এমন দাবি করেন, তখন আমাদের সম্পর্কে খুব একটা ভালো ধারণা হয় না।’ সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমেরিকার এই গণতন্ত্রের সম্মেলনে যদি বাংলাদেশ স্থান পেতো, ভারত না পেতো, তখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলতেন— ভারতের চেয়েও আমাদের গণতন্ত্র শক্তিশালী। এটাও বলতেন, তাদের চেয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধিও বেশি।’