বিশ্বকাপের আগে চিন্তার খোরাক জোগানো ম্যাচ

প্রকাশিত: ২২:২৬, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিশ্বকাপের আগে চিন্তার খোরাক জোগানো ম্যাচ

সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে টানা জয়ে দলের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী হলেও ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস ছিল তলানিতে। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ব্যাটিংবান্ধব উইকেট পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কিউইদের দেওয়া ১৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা করতে পেরেছেন ১৩৪ রান। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে ড্রেসিংরুমে। অভিজ্ঞ তামিমের অনুপস্থিতিতে যাদের ওপর দায়িত্ব ছিল, তারা কেউই পারফেক্ট ব্যাটিংটা করতে পারছেন না। শুক্রবার টপ অর্ডারে নামা নাঈম, লিটন, সৌম্য, মুশফিক বাজে শটে আউট হয়েছেন। এমন হতশ্রী ব্যাটিং নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবাবে। শুক্রবার মিরপুরে উইকেটের রহস্যজাল উপেক্ষা করে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কিউইরা। পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে এমন ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে শুরু থেকেই কিউই ব্যাটসম্যানরা আক্রমণ চালাতে থাকেন। ফিন অ্যালেনের ২৪ বলে ৪১ এবং টম ল্যাথামের ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংসেই জয়ের জন্য ভালো পুঁজি (১৬১) দাঁড়িয়ে যায় তাদের। অথচ একই উইকেটে বাংলাদেশের দুই ওপেনার নাঈম ও লিটন যেন শটস খেলতে ভুলেই গেলেন! এজাজের বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে পয়েন্টে দাঁড়ানো স্কট কুগলেইনের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন লিটন। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া সৌম্যর তো আরও বাজে অবস্থা ছিল ফুটওয়ার্কে। জায়গায় দাঁড়িয়ে ম্যাকনকির অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। নাঈমও হেঁটেছেন সৌম্যর দেখানো পথে। অভিজ্ঞ মুশফিক আগের দিনও ব্যাটে ঘাম ঝরিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচে তার  কোনও ফল পাওয়া যায়নি। আজ ফিরে গেছেন মাত্র ৩ রানে। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় মিডল অর্ডারে আফিফ ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতেই মূলত একশ’ ছাড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে আফিফ ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর খেই হারান তিনি। সঙ্গে নুরুল-শামীম হাল ধরতে না পারায় বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৮ উইকেটে ১৩৪ রানে। জিম্বাবুয়ে সফরে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে আসার পর ঘরের মাঠে স্লো ও টার্নিং উইকেটেই খেলছে বাংলাদেশ। মাঝে মধ্যে বেশ কিছু উইকেট ব্যাটিংবান্ধব হলেও সেখানেও ব্যাটসম্যানরা ভালো করতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত দশ ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে ভালো উইকেট ছিল আজকের ম্যাচে। তাই কিউইরা আগে ব্যাটিং করে শরিফুল-নাসুম-তাসকিনদের বিপক্ষে ঝড় তুলেছিলেন। সেই ঝড়েই সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬১। কুড়ি ওভারের ধুম-ধাড়াক্কা ক্রিকেটে এই লক্ষ্য মামুলিই হওয়ার কথা। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় স্বাগতিকরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এমন পারফরম্যান্সের অজুহাত হিসেবে কোনও কিছুকেই সামনে আনার সুযোগ নেই। তবু যদি আনতে হয় তাহলে সম্প্রতি খেলা মিরপুরের স্লো-টার্নিং উইকেটকেই আনতে হবে!  এমন পিচে খেলতে খেলতেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে ঠেকেছে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে আজকের ম্যাচ। বিশ্বকাপের আগে স্লো উইকেটে খেলে জয় পেলেও আদতে যে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি যথার্থ হয়নি, সেটা প্রমাণ করতেই যেন ব্যাটিং পিচে লিটন-সৌম্য-নাঈম-মুশফিকরা দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলেন! তাই তো বড় দুটি দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পরও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারসহ কোচেরা। শুধু তা-ই নয়, নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান তো টুইটারে মাধ্যমে প্রশ্ন রেখেছেন- এভাবে জিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কতদূর? আজকের ম্যাচের আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা ৯ ম্যাচে সর্বোচ্চ রান ১৪১, যা সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে কিউইরা করেছিল। বাকি ম্যাচগুলোর বেশিরভাগই লো স্কোরিং। আগের সিরিজে অজিরা ৬২ রানে অলআউট হওয়ার পর কিউইরা প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে অলআউট হয়েছিল। গত বুধবারও একশ’ নিচে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। এ কারণে এভাবে জিতেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো দল হয়ে ওঠা সম্ভব কিনা, প্রশ্ন তুলেছেন ম্যাকক্লেনাঘান। শুধু ম্যাকক্লেনাঘানই নন, ভারতের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেও এমন উইকেটে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি যথাযথ হচ্ছে কিনা প্রশ্ন রেখেছেন। টুইটারে তিনিও লিখেছেন, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে যে ধরনের উইকেটে খেলা হচ্ছে; সেটা তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য ভালো হবে কিনা!’ বাংলাদেশের স্থানীয় কোচ সারোয়ার ইমরানও বলেছেন, ‘এমন উইকেটে খেলে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা যথার্থ হচ্ছে না। বিশ্বকাপের কন্ডিশন হবে ব্যাটিংবান্ধব। কিন্তু মিরপুরের স্লো উইকেটে খেলে ব্যাটসম্যান সেই প্রস্তুতিটা নিতে পারবে না। ফলে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েই বিশ্বকাপে যেতে হবে বাংলাদেশকে।’ বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্য ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতিটা ওমানে গিয়েই নিতে আগ্রহী। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর কথায় তেমনটাই বোঝা গেলো, ‘দেখেন যে কোন ফরম্যাটে খেলি না কেন, জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয়টা কিন্তু আত্মবিশ্বাস সব সময় বাড়ায়, হারতে থাকলে মানসিকতা এমনিতেই নেমে যায়। সে হিসাবে জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনও জায়গায় ভালো করা যায়। আর আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি কিন্তু ওমানে গিয়ে শুরু হবে।  তাছাড়া বিশ্বকাপ শুরু হতে প্রায় এক মাসের মতো সময় আছে। সেদিক থেকে বিল্ডআপ বা রিফ্রেশিংয়ের যথেষ্ট সময় আছে।’