আইপিএলের ৩ ম্যাচে সাকিবের পারফরম্যান্স; কাটা ছেঁড়া শুরু

প্রকাশিত: ০৭:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২১

আইপিএলের ৩ ম্যাচে সাকিবের পারফরম্যান্স; কাটা ছেঁড়া শুরু

৩ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ৩৮ রান, বোলিংয়ে ৮১ রানে ২ উইকেট। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ৩ ম্যাচে সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্স এটি। 

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বোলিংয়ে আঁটসাঁট পারফরম্যান্স হলেও ব্যাটিংয়ে নিষ্প্রভ। অথচ বোলিংয়ের থেকে তার ব্যাটিংয়ে ভালো করার সুযোগ ছিল বেশি। ছিল ম্যাচ জেতানোর সুযোগও।  সেই সুযোগ নষ্ট করেছেন। বাংলাদেশের সুপারস্টারের ৩ ম্যাচের পারফরম্যান্স কাটা ছেঁড়া শুরু হয়েছে। প্রশ্নও উঠছে, পরের ম্যাচগুলোতে সুযোগ হবে কী? 

২০১২ এবং ২০১৪ সালে কলকাতার হয়ে আইপিএলের শিরোপা জিতেছিলেন সাকিব। সেই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারকে এবার ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় কলকাতা। তিন মৌসুম পর সাকিব আল হাসানকে পেয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের টুইট, ‘আমাদের ময়না ঘরে ফিরে আসছে।’

শুরু থেকে সাকিবের সুযোগ হবে কিনা তা নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা। কলকাতা ভালোমানের বিদেশী ক্রিকেটার সংগ্রহ করেছিল। সাকিবের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা ছিল সুনীল নারিন। তাকে টপকে প্রথম ৩ ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছেন সাকিব। 

কিন্তু পারফরম্যান্স? অনেকটাই গড়পড়তা। ম্যাচ জেতানোর সুযোগ থাকলেও পারেননি। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন একেবারে শেষে। সেখানে কিছু করার মতো ছিল না। তবুও বলের সঙ্গে রান মিলিয়ে খেলা যেত। জয় পাওয়া সেই ম্যাচে করেছিলেন ৫ বলে ৩ রান। তবে বোলিংয়ে প্রথম বলে পেয়েছিলেন উইকেট। ধারাবাহিকতা ছিল পরবর্তীতেও। তারপরও ৪ ওভারে ৩৪ রানে শেষ করেন বোলিং। 


দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের ঘূর্ণি যাদু ছিল দেখার মতো। চেন্নাইয়ে নিজের মনের মতো উইকেট পেয়েছিলেন। তাতে ৪ ওভারে ২৩ রানে দিয়ে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। ধীর গতির উইকেট। বল টার্ণ পাচ্ছিল। শট খেলার সুযোগ ছিল না মোটেও। এমন উইকেট সাকিবের ব্যাটিংয়ের জন্যও আদর্শ। অথচ কলকাতার যখন ২৯ বলে ৩১ রান দরকার তখন মুম্বাইকে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ক্রনাল পান্ডিয়ার বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েন সাকিব ফেরেন ৯ বলে ৯ রান করে। 

গতকাল শেষ ম্যাচে বাজে দিন গেছে কলকাতা ও সাকিবের। বোলিংয়ে বাঁহাতি স্পিনারকে ২ ওভারের বেশি করানোর সাহস করেননি কলকাতার অধিনায়ক মরগ্যান। ২ ওভারে সাকিব দিয়েছিলেন ২৪ রান। খরুচে বল করার পর ব্যাটিংয়ে চাহিদার বিপরীতে তিনি খেলেছেন মন্থর এক ইনিংস। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও মেটাতে পারেননি সময়ের দাবি। জেমিসনকে স্টাম্প ছেড়ে খেলার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যখন ফেরেন তখন তার নামের পাশে রান ২৫ বলে ২৬। অথচ এ ইনিংসেও ছিল ১ ছক্কা ও ১ চার। বড় শট খেলার পাশাপাশি স্ট্রাইক রোটেট করতে যে বেগ পাচ্ছিলেন তা বোঝাই যাচ্ছিল। 

এরই মধ্যে সাকিবের পরিবর্তে নারিনকে কেন খেলানো হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিশেষ করে ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া কলকাতার পরবর্তী ম্যাচে নারিনকে সাকিবের জায়গায় দেখতে চান। আরেক ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপও নিজের সেরা একাদশে সাকিবকে রাখেননি। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো সাকিবের সুযোগ হয় কিনা সেটা দেখার।