সেঞ্চুরি করেই লিটন আউট

প্রকাশিত: ১৪:২৫, ১১ জানুয়ারি ২০২২

সেঞ্চুরি করেই লিটন আউট

বাংলাদেশের টপ অর্ডার দ্বিতীয় ইনিংসে চেষ্টা করেছে। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। লিটন দাস তাদের দেখালেন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় কীভাবে ব্যাট করতে হয়। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এই উইকেটকিপার ব্যাটার তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। যদিও শতক পূরণ করার পরপরই আউট হয়ে গেছেন তিনি।

আজ (মঙ্গলবার) চলছে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৭০। প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করা নিউজিল্যান্ড থেকে পিছিয়ে ১২৫ রানে। প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের দাপটে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসেও দাপট দেখিয়েছেন স্বাগতিকরা পেসাররা। তারপরও তাদের ওপর চড়াও হয়ে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করেছেন লিটন। কাইল জেমিসনের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ১১৪ বলে খেলেন ১০২ রানের ইনিংস, যাতে ছিল ১৪ চার ও এক ছক্কার মার।  দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ফলোঅনে নামা বাংলাদেশের প্রথম সেশনে ছিল ভালো ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। প্রায় ঘণ্টাখানেক প্রতিরোধ গড়ে কিউইদের হতাশ করতে পেরেছে সাদমান ইসলাম-মোহাম্মদ নাঈম জুটি। দলীয় স্কোর যখন ২৭ তখনই বিপদ ডেকে আনেন সাদমান। ১৪তম ওভারে কাইল জেমিসনের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দিলেও পারতেন। কিন্তু অলস ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে টম ব্লান্ডেলের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হন তিনি। প্রায় ঘণ্টা খানেক ক্রিজে পড়ে থাকলেও বামহাতি ব্যাটার সাজঘরে ফিরেছেন ৪৮ বলে ২১ রানে। তাতে ছিল ৩টি চার। প্রথম ইনিংসেও ব্যর্থ হওয়া সাদমান করতে পেরেছিলেন মাত্র ৭ রান। এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও উইকেট পেয়ে যাচ্ছিলেন জেমিসন। খোঁচা মারতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু মিচেল সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। জীবন পেয়ে শান্ত ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়েছিলেন। নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন ৪৪ রান। লাঞ্চ ব্রেকের আগে শান্ত আরেকটু ধৈর্য ধরলেই প্রথম সেশনের বিরতিটা একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু নিল ওয়াগনারের শর্ট ডেলিভারিতে আর শেষ রক্ষা হয়নি। পুল করতে গিয়ে ধরা পরেন বাউন্ডারি লাইনে। ৩৬ বলে আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকা শান্ত করেছেন ২৯ রান। তাতে ছিল ৫টি চার। অথচ আগের ওভারে এই শর্ট ডেলিভারিতেই তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে চেষ্টা করেছেন ওয়াগনার। কিন্তু কিউই পেসারকে মেরে খেলেই জবাব দিয়েছিলেন।  বিরতির পর মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ নাঈম মিলে ইনিংস সামাল দিচ্ছিলেন ভালোভাবেই। ৩৪ রান যোগ করেন তারা। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় প্রান্ত আগলে খেলা নাঈম মনোযোগ হারিয়ে বসেন দলের স্কোর ১০৫ ছাড়ালে। টিম সাউদির ফুলার লেংথের বল ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। ফলাফল বল এজ হয়ে জমা পড়েছে দ্বিতীয় স্লিপে। তাতে শেষ হয় নাঈমের ৯৮ বলে খেলা ২৪ রানের ইনিংস। দারুণ ইনিংস খেলার পথে ছিলেন মুমিনুল হকও। কিন্তু নাঈমের মতো একই রকম বিলাসী হওয়ার খেসরাত দিতে হয়েছে তাকে। ওয়াগনারের ফুলার লেংথের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে টেলরের ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাতে ৬৩ বল খেলা মুমিনুলকে থেমে যেতে হয় ৩৭ রানে! দ্রুত খেই হারানো বাংলাদেশের ইনিংসের পরবর্তী ব্যাটার ছিলেন ইয়াসির। প্রথম ইনিংসে যার হাফসেঞ্চুরি স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছিল। এবার অবশ্য তাকে ২ রানেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন ওয়াগনার। শর্ট ডেলিভারিকে অস্ত্র বানিয়ে বিপদে ফেলেন ইয়াসিরকে। বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে ল্যাথামের হাতে।  তার পর চা পানের বিরতির দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন নুরুল হাসান ও লিটন দাস। বেশ কিছু বাউন্ডারিতে কিউইদের হতাশ করেছেন দু’জনই। দারুন প্রতিরোধের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু মিচেলের বলে সোহান মেরে খেলতে গেলে ভেঙে যায় ১০১ রানের দারুণ এই জুটি। ৫৪ বলে ৩৬ রানে থেমেছেন সোহান। তাতে ছিল ৭টি চার।