‘৩৭ বছরেও নারীর প্রতি বৈষম্য দূর হয়নি’

প্রকাশিত: ২৩:০৬, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

‘৩৭ বছরেও নারীর প্রতি বৈষম্য দূর হয়নি’

৩৭ বছরেও নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) বাস্তবায়ন হয়নি। পাশাপাশি সমতার জায়গায় এখনো নারীরা অনেক পিছিয়ে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সিডও দিবস পালন উপলক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘অর্থনীতিতে নারী ও সিডও বাস্তবায়ন: পরিপ্রেক্ষিত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। তারা বলেন, বলা হচ্ছে- এ ব্যাপারে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেই। সিডও সনদের ২ ও ১৬.১-এর (গ) ধারা দুটি সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অথচ বাংলাদেশ সরকার নানা কারণ দেখিয়ে ধারা দুটির ওপর সংরক্ষণ এখনো বহাল রেখেছেন, যা নারী উন্নয়নে ও সমতা প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র দায়বদ্ধ না হলে সিডও সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন তৈরির সময় সরকার সিডও সনদ ও নারী নীতি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা বললেও তা বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যায় না। তারা আরও বলেন, সিডও সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণমাধ্যমের তৎপরতাও খুব বেশি দেখা যায় না। নীতিমালাগুলো জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে এনে সরকারকে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মনিটরিং, জবাবদিহিতা, বাজেট, জনবল নিশ্চিত না হলে নারীবান্ধব নীতিমালা থাকলেও অর্থনীতিতে নারীর অগ্রগতি টেকসই করা সম্ভব হবে না বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের মালেকা বানু আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ অঙ্গনে সিডও সনদ গৃহীত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি বছর সিডও দিবস পালন করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট ফেরদৌসী সুলতানা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও তা ধরে রাখতে সরকারের কোটা প্রভিশন বাড়েনি। অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ২৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে এটা ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়। ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট সোহেল রানা বলেন, ৩৭ বছর ধরে সিডও সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানোর পরও সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেই। রাষ্ট্র দায়বদ্ধ না হলে সিডও সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকীসহ অনেক ভালো আইন হলেও বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ে জোর দিতে হবে। সাংবাদিক রীতা নাহার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন হলেও খুব বেশি উন্নতি হয়নি। সমতার জায়গায় এখনো আমরা অনেক পিছিয়ে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, আন্দোলন যত শক্তিশালী হবে অধিকার প্রতিষ্ঠা তত সহজ হবে। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী। তিনি সিডও সনদের বিভিন্ন ধারায় ও বাংলাদেশের সংবিধানে অর্থনীতিতে সমানভাবে নারীদের যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন। সভায় প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক উপ-পরিষদ সদস্য ফেরদৌস জাহান রত্না।