সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে পায়ে হেঁটেও রওনা দিচ্ছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০৭:২০ পিএম, ২২ মে ২০২০ শুক্রবার

মাঝে মাঝে হালকা হিমেল হাওয়া গাঁ জুড়িয়ে দিলেও পরক্ষণেই রৌদের প্রখর তাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ। কিন্তু তাতেও বাঁধা মানছে না ঈদে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপনের আকাঙ্খা। ঝুঁকি নিয়েই পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। কেউ পায়ে হেঁটে কেউ আবার অতিরিক্ত ভাড়াগুণে পিকআপ,কার্ভাডভ্যান, মোটরযানে চড়ে বাড়ি ফিরছেন। 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে  এ  দৃশ্যের দেখা মিলে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শত শত নারী-পুরুষ রোদে পুড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্য অভিমুখী হচ্ছে। মহাসড়কে কোনো যানবাহন না থাকায় দল বেঁধে প্রায় ১৫-২০ জেলার মানুষ হেঁটেই চেকপোস্ট পার হয়ে ছুটে চলেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

 

জেলা পুলিশ সূত্রে  জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ২০ কিলোমিটার জুড়ে মানুষের গমনাগমন রোধে ১০টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতিটি চেকপোস্টে  বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

 

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,  জেলা পুলিশ ওই বাসস্ট্যান্ডে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন আটকে দিচ্ছে এবং যেখান থেকে যানবাহনগুলো আসছিলো সেখানেই ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই ভাড়া করা প্রাইভেটকার বা ‘হাইয়েস’ গাড়িতে করে এসেছিলেন তারা গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছে।

 

বন্দর মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সড়ক পারাপার হতে ব্যস্ত অর্ধশত মানুষ। সড়ক থেকে এপাশ থেকে ওপাশে যেতে পারলেই রিক্শা বা সিএনজিতে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে যে যার মত। একই অবস্থা দেখা যায়, সোনারগাঁও মোগড়াপাড়া এলাকায় গিয়েও। সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কেউ পথচারী সেতু কেউ সড়ক দিয়েই অতিক্রম করছেন।  

 

তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে ঈদ উপলক্ষে ঘর ফিরতি প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, বন্দর, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বিভিন্ন জেলা উপজেলা পৌঁছেছে।

 

ঈদে প্রতিবারের মত এবারও বাড়ি যাওয়ার জন্য সকাল  ৬টায়  ঢাকা আরামবাগ থেকে  রওনা দেয় মাসুম বিল্লাহ্ ও তার পরিবার। গন্তব্যস্থল আড়াইহাজার। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে বন্দরের মদনপুর হয়ে সাড়ে ৫ঘণ্টার যাত্রা শেষে আড়াইহাজারের গাড়ি পেতে সক্ষম হয়েছেন। এভাবেই নিজের ঈদ যাত্রার বর্ণনা দিচ্ছিলেন ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ। 

 

তিনি বলেন, গুলিস্তান থেকে শনিরআখড়া আসার পর কোনো গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটে সাইনবোর্ড আসি। তারপরের অবস্থা আরো খারাপ। কেউ পিকআপে উঠে চেপে বসছে কেউ অটোতে গাদাগাদি করে চেপে বসছে। রিস্ক না নিয়ে সাইনবোর্ড থেকে সিএনজি নিয়ে নবীগঞ্জ তারপর সেখান থেকে মদনপুর। তারপর রাস্তাপার হয়ে সিএনজি নিয়ে এখন চলে যাবে। ঈদের দিন কুমিল্লা দাউকান্দি চলে যাব। পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে মাসুম বিল্লাহ্র মত এমন ফন্দি এটেছেন অনেকেই।

 

সোনারগাঁও মোগরাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পথচারী সেতুতে উপচে পড়া ভিী। কারো গন্তব্য কুমিল্লা, কারো চট্টগ্রাম কেউ আবার সিলেটের উদ্দেশ্যে কিন্তু যানবাহন না থাকায় ভেঙে ভেঙে গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। সব কষ্ট দূর হবে বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই। সবার সাথে ঈদ করতে পারলেই  কোনো কষ্ট কষ্ট মনে হবে না। জানালেন মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্টস শ্রমিক নুর মোহাম্মদ।