শনিবার   ৩০ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

প্রেমের কাছে হার মানলো করোনা

বর পাকিস্তানি, কনে বাংলাদেশী

যুগের চিন্তা ডেস্ক

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০১:০০ পিএম, ২২ মে ২০২০ শুক্রবার

পাকিস্তানের যুবকের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশী তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের বিয়ের দিনক্ষণও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রেমের কাছে পরাজিত হলো করোনাভাইরাস। সম্প্রতি ওই দুই দেশের প্রেমিক যুগলের অনলাইনে বিয়ে সম্পন্ন হবার মধ্য দিয়ে সেই সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে) জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার কনের বাবা মোজাফ্ফর হোসেনের বাড়িতে মোবাইলযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।


কনে মুরসালিন সাবরিনা (২০) বাংলাদেশি, তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলায়। অন্যদিকে বর বর মুহাম্মদ উমের (২৫) বাড়ি পাকিস্থানের পাঞ্জাব প্রদেশে।


কনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেনের মেয়ে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’-এ ২০১৮ সাল থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনা করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা অবস্থায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ইয়েমার’র মাধ্যমে পরিচয় হয় পাকিস্তানের মুলতান শহরের শাহরুখনে আলম কলোনীর যুবক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ উমের সঙ্গে। উমের এর বাবা বিলাল আহম্মেদ বড় ধরণের সব্জি ও ফল ব্যবসায়ী।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের পরিচয়। সেই পরিচয় এক সময় শুভ পরিনয়ে রূপ নেয়। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। ২০১৯ সালে তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে।


এরপর, উভয় পরিবারের অভিভাবকরা তাদের বিবাহ সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিসার জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জয়পুরহাটে সাবরিনা এবং তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেয় স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ভিসা নিয়ে মার্চ মাসেই উমের এর পরিবার বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল।


তাদের প্রেমের এই সম্পর্ক উভয় পরিবার মেনে নিলেও মুসলিম শরিয়ত মতে অবৈধ হওয়ায় আপত্তি তোলেন উমের বাবা বিলাল আহম্মেদ। তাদের যোগাযোগের বৈধতা দিতে সাবরিনার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইনে বিয়ে সম্পন্নের প্রস্তাব করেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে অনলাইনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সাবরিনার বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে তাদের বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিুজর রহমান।