সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

আড়াইহাজারে করোনার প্রাদুর্ভাব, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের দুরবস্থা

এম এ হাকিম ভূঁইয়া (আড়াইহাজার)

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০৯:১৩ পিএম, ২১ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

আড়াইহাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল। এসব স্কুলে পাঠদানে জড়িত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুলগুলো বর্তমানে বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা পাচ্ছে না শিক্ষকরা। এতে শিক্ষক পরিবারগুলোতে চরম দুরঅবস্থায় বিরাজ করছে। 


উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ১৩৪টি কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষার্র্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত প্রতিমাসের অর্থ দিয়েই শিক্ষক ও কর্মচারিদের বেতন প্রদানসহ বিভিন্ন স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। বর্তমানে শিক্ষার্র্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন আদায় বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে ভাইরাস কমিউনিটি (সংক্রমিত) হওয়ার আতংকে প্রাইভেট বা কোচিংও বন্ধ রয়েছে। এতে অর্থ সংকটে অনেক শিক্ষকই তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 


আড়াইহাজার মডেল একাডেমির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাসেম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৩০০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এতে ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা পাঠদান করে থাকেন। এর মধ্যে ৩জন অফিস কর্মচারিও রয়েছেন। 


তিনি আরও বলেন, ১৭ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন আদায় বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকদের বেতন দেয়া যাচ্ছেনা। কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের নয়াগাও আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান বলেন, আমার স্কুলে ১০৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের পাঠদানে নিয়োজিত ৬ জন শিক্ষক। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায় করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষকদের বেতনও দেয়া যাচ্ছেনা। 


স্থানীয় জাঙ্গালিয়া এলাকায় অবস্থিত সুরভী মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও উপজেলা কিন্ডারাগার্টেন এসোসিয়েশনের (একাংশ) সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন আদায় করতে না পারায় শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে। সরকারি সুবিধা পেতে এরই মধ্যে শিক্ষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। 


রামিম কিন্ডারগার্টেন (কেজি) নামে একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল বলেন, আমাদের স্কুলের শিক্ষক ৬জন। এর মধ্যে একজন কর্মচারি। শিক্ষার্থী রয়েছে ৯০জন। বর্তমানে বেতন বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকরা প্রাইভেট বা কোচিং পড়াতে পারছেন না। এতে তাদের সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। 


জাঙ্গালিয়া এলাকার সুরভী মডেল স্কুলের শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুল বন্ধ রয়েছে। এতে আমাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। স্কুলের বেতনসহ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উর্পাজন করা হতো। এখন তা হচ্ছে না। এতে আমাদের সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। 


স্বপ্নপূরণ শিশু শিক্ষালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, চার মাস ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় আমার পরিবার নিয়ে আমি আর্থিক কষ্টে আছি। 
কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের (একাংশ) সভাপতি ও মনিংসান কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা মো. খোরশেদ আলম মুকুল বলেন, আমার স্কুলে ২০০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন ১৬জন শিক্ষক। বর্তমানে তাদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদী বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি করা হয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩৪টি স্কুল রয়েছে। স্কুলগুলোতে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জনের মতো শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর নির্দেশে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেনের উদ্যোগে উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিস থেকে কিছু শিক্ষককে খাদ্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন বলেন, কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের দেয়া তালিকা অনুযায়ী বেশ কিছু শিক্ষকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।