সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

চারারগোপে শ্রমিকরা হাত ধোয়ে না

রাসেল আদিত্য

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০৬:২৭ পিএম, ২১ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

চারারগোপ। দেশের অন্যতম বৃহৎ ফলের আড়ৎ। এর অবস্থান নগরীর কালীরবাজার এলাকায়। শীতলক্ষ্যা নদীর পোতাশ্রয় এর শেষ মাথায় দক্ষিণ-পশ্চিম তীর ঘেঁষেই চারারগোপ। সব মৌসুমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সড়ক এবং নৌপথে এখানে মালামাল আসে।

 

তারপর আড়ৎ থেকে পাইকাররা কিনে সেগুলো বিক্রির উদ্দ্যেশে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহত এই ফলের আড়তে ফল পাইকারী বেচাকেনাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই। আড়তদার, পাইকার ও শ্রমিক কারো মুখেই মাস্ক নেই। কেহই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেনা। নেই হাত ধোয়ার কোন ব্যবস্থা। 


আড়তের মালামাল লোড-আনলোডের কাজে নিয়োজিত রয়েছে শত শত শ্রমিক। রাতদিন কাজ করছেন তারা। এক্ষেত্রে প্রথমে ট্রলার বা ট্রাক থেকে মালামাল নামিয়ে আড়তে রাখা হয়। বিক্রির পর সেগুলোকে আবার পাইকারদের ভ্যান বা ঠেলা গাড়িতে উঠানো পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে সংশ্লিষ্ট থাকে। এর ফাঁকে অনেক শ্রমিকরা আড়তে মালামাল রক্ষণাবেক্ষণও করে থাকে।

 

এক্ষেত্রে ফলমূল চূড়ান্ত ভোক্তার হাতে যাওয়া পর্যন্ত এ শ্রমিকরাই কাজে নিয়োজিত থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের এ প্রকোপের সময় তাদের নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা। মানা হচ্ছেনা কোন সামাজিক দূরত্ব। কেউ কেউ শুধুমাত্র মুখে মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেককেই তা খুলে থুনির নিচে ঝুলিয়ে রাখছে। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করে না। তাছাড়া হ্যান্ডগ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কাউকেই ব্যবহার করতে দেখা যায় না।


এখানে নেই হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। শুধুমাত্র একটি টয়লেট ছাড়া সেখানে পরিচ্ছন্ন হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া এখানে অনেকে রাত যাপনও করে থাকে। তাদের ভরসা একমাত্র টয়লেট ও নদীর পানি। কিন্তু স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে এগুলো কতটুক ভূমিকা রাখতে পারে সেটা ভাববার বিষয়।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আড়ৎ এবং এর আশেপাশের রাস্তায় মালামাল লোড ও আনলোড করছেন কয়েক শ’ শ্রমিক। তাছাড়া বিক্রি করছেনও শ্রমিকরা। আড়তের ম্যানেজার বা ক্ষেত্রবিশেষ মালিকরা শুধুমাত্র টাকা-পয়সার হিসাব রাখছেন। এক্ষেত্রে কেউ কেউ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেকে তা করছেন না আর হ্যান্ডগ্লাভস তো ব্যবহার করছেন না।  

 

জানতে চাইলে কর্মরত একজন শ্রমিক জানান, কাজের সময় মাস্ক পড়লে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন কাজ করতে অসুবিধা হয়, তাই মাস্ক ব্যবহার করি না। আবার একটা মাস্ক দুই তিন দিনের বেশি পড়া যায় না, বার  বার ধোয়া লাগে। তাই অনেক সময় মাস্ক পড়তে বিরক্ত লাগে।করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এবং ভয়াবহতার কথা জানতে চাইলে তিান জানান, শুনছি এবং প্রতিদিন খবরে দেখছি। কাজ করে একবারে গিয়ে গোসল করি, আবার সকালবেলা কাজে আসি। চেষ্টা করছি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য। বিপদ-আপদ হলে আল্লাহ রক্ষা করবে।

 

এ ব্যাপারে আড়তের একজন মালিকের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, এখানের যে পরিস্থিতি তাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কাজকর্ম করা কষ্টকর। শুরুর দিকে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল কিন্তু অনেকটা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো এখন বন্ধ রয়েছে। অনেক শ্রমিকরা রাতে অবস্থান করে। তাদের জন্য এবং আড়তের সবার ব্যবহারের জন্য আমাদের একটি টয়লেট রয়েছ। তাছাড়া আশেপাশের কয়েকটা মার্কেটেও টয়লেট রয়েছে যেখানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

শহরের মাসদাইর বাজার থেকে আসা একজন পাইকার জানান, আমরা তো মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস ব্যাবহার করছি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছি। কিন্তু বাইরে আসলে এটা মানে যায় না। এখন চারদিকে যে ভিড় তাতে আমদের ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এদের মধ্যে যদি কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেই থাকে তাহলে তো আমাদের রক্ষা নেই। শ্রমিক এবং আড়তের মালিকরা যদি সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাহলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।