সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

গার্মেন্টস সেক্টরে অশনি সংকেত

স্টাফ রিপোর্টার

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০৬:২৪ পিএম, ২১ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

একদিকে করোনা আক্রান্ত মানুষের দৈনদশা, অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে চলছে থেমে থেমে শ্রমিক অসন্তোষ। শিল্পাঞ্চলখ্যাত নারায়ণগঞ্জের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস দিতে মালিক পক্ষ অপারগতা প্রকাশ করছে।

 

আর এ নিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ চলছে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা ও ঈদ পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ শ্রমিক অসন্তোষের আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা।


করোনা পরিস্থিতিতে সরকার গার্মেন্টস সেক্টরে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সরকারের প্রণোদনা গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের মাঝে সুষমভাবে বন্টন না করার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে লকডাউন শিথিল করার পর, শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেন। এরই মধ্যে ঈদের বন্ধের ঘোষণা আসে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন দেয়া হলেও শ্রমিকদের বোনাস দেয়া হয়নি।

 

আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন পায়নি শ্রমিকরা। আর এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে দেখা দেয় অসন্তোষ। অনেক ছোটখাটো প্রতিষ্টানে শ্রমিকদের বেতন না দিয়েও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার অভিযোগও রয়েছে। মঙ্গলবার হাজীগঞ্জে ফকির নীটওয়্যার শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষে সিভিল সার্জনের গাড়ি ভাংচূর করা হয়। এছাড়াও সিভিল সার্জনসহ ফোকাল অফিসারকে অবরুদ্ধ করে রাখে শ্রমিকরা।

 

মঙ্গলবার  সিদ্ধিরগঞ্জের রহমান নীট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতনের ৬০ ভাগ ও বোনাসের দাবীতে শহরে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা শিল্প পুলিশের বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন।


ঈদের আগে যেভাবে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, ঈদের পর নারায়ণগঞ্জে পোশাক শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মাঝে বড় ধরনের অসন্তোষের আশংকা করছে অনেকে। এরই মধ্যে ছোট ছোট পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

 

চলমান কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনো শ্রমিকরা কাজ করছে। ঈদ পরবর্তী সময়ে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে কাজ আরো কমে যাবে। সেই পরিস্থিতি উত্তরণে  নীতি নির্ধারকদের বিচক্ষনতার সাথে এগুতে হবে বলে মনে করছে অনেকে।


ফতুল্লার বিসিক এলাকার কয়েকজন গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন,করোনা পরিস্থিতিতে মালিকরা শ্রমিকদের ঠকানোর মিশনে নেমেছে। এত বছর ব্যবসা করে তারা যে অঢেল টাকার মালিক হয়েছে সেই টাকা থেকেও তারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। আবার শ্রমিকদের বেতনতো দূরের কথা তাদের বেতন থেকে উল্টো টাকা কেটে নিচ্ছে।

  
এ ব্যাপারে ফতুল্লার একজন শ্রমিক নেতা বলেন, শ্রমিকদের ঠকানোর জন্য এক শ্রেনীর মালিক সব সময় কৌশল অবলম্বন করে। এর মধ্যে গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে সব সময় বঞ্চিত করে থাকে। সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রণোদনা দিয়েছে।

 

তাহলে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিতে তারা এতো গড়িমসি কেনো করছে তা বোধগম্য নয়। সরকার আন্তরিক হলেও মালিকরা শ্রমিকদের সাথে যে আচরণ করছে তা সামনের দিনগুলোতে কোন ভালো বার্তা নিয়ে আসবে না।


এ ব্যাপারে গার্মেন্টস মালিক পক্ষের একজন ব্যক্তি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে কোন অর্ডার নেই। মালিকরা তাদের শিল্প বাঁচাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে। সামনের পরিস্থিতিতে মালিকদের যদি শ্রমিকরা একটু সুযোগ না দেয় তাহলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে তাদের বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। পরিস্থিতি মালিক শ্রমিক মিলে মোকাবেলা করতে হবে। এমন মনোভাব থাকলে আশা করি কোন সমস্যাই হবে না।