মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৪ ১৪২৬   ১৩ শা'বান ১৪৪১

করোনা সতর্কেও মুদি-কাঁচাবাজার ও ফার্মেসীতে ভিড়

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০১:০৩ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২০ বুধবার

যুগের চিন্তা রিপোর্ট :  করোনা ভাইরাস কেভিড-১৯ এর প্রভাবে সতর্ক বাংলাদেশ। সবাইকে ঘরে আবদ্ধ থাকার পরামর্শে শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোও এখন অনেকটাই ফাঁকা। ব্যতিক্রম শুধু পাইকারী বাজার খ্যাত দ্বিগুবাবুর বাজারের মুদি, কাঁচাবাজার ও কালীরবাজার এলাকার পাইকারী ঔষধ বিক্রয়ের দোকানগুলো। এসব জায়গায় দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। প্রত্যেকেই যেন ক্রয়ের প্রতিযোগিতায় মগ্ন। গতকাল শহরের এই এলাকাগুলো ঘুরে পাওয়া যায় এমন চিত্র।
 
শহরের দ্বিগুবাবুর বাজারে মুদির দোকানগুলোতে যেমন ভিড় ছিল তেমনই ভিড় দেখা যায় কাঁচাবাজার এলাকায়। করোনার ঘর বন্দি’র ব্যবস্থা ছাড়াও দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই প্রত্যেকে তাদের প্রয়োজনীয় মালামালগুলো মজুদ রাখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়া সম্ভাবনাও এই মজুদের কারণ বলে জানান অনেকে।

কাঁচাবাজারে পেয়াজ, আদা, রসুন, আলু, টমেটো এবং মুদির দোকানে ডাল, লবন, আটা, ময়দা, চিনি, সুজি, ডিটারজেন্টসহ শুকনো মরিচ ও মসলা’র চাহিদাই ছিল বেশী। এসময় এক ক্রেতাকে ভ্যানগাড়ি ভর্তি করে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেলে কারণ জিঞ্জেস করলেও কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
 

আরো এক ক্রেতাকে দেখা যায় ১০ কেজি ডাল, ১০ কেজি লবনসহ বেশ পরিমান আদা রসুন ও মসলা কিনে রিক্সায় তুলছে। নাম বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সে জানায়, কত দিন এই পরিস্থিতি থাকবে জানি না। তাই একটু সাবধান হওয়া দোষের কিছু না। আমাদেরতো আর সবসময় বাজারে আসা সম্ভব হবে না। তাছাড়া যত বাহিরে বের হবো ততই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। তাই বাসা থেকে কম বের হওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা।
 

আসমা আক্তার নামের এক নারী ক্রেতা জানান, আমাদের বেশী কিছু মজুদ রাখার ক্ষমতা নাই। তবে সাধ্যের মধ্যে যেটুকু সম্ভব তাই নিয়ে রাখছি। যেগুলো সবসময় প্রয়োজন হয় এবং একটু বেশী দিন রাখা যায় চেষ্টা করছি সেগুলোই নিয়ে রাখতে। আর এখান থেকে একসাথে একটু বেশী পরিমান কিনলে একটু কম দামে কেনা যায়।
 

অন্যদিকে কালিরবাজারে ঔষধের দোকানগুলোতেও একই চিত্র। সেখানে অবশ্য পুরুষের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যাও কম নয়। এখানে পাঠানটুলি এলাকা থেকে আসা আসিফা জানান, আমাদের বাসায় ছোট শিশু থাকায় এমনেতেই সবসময় ঔষধ রাখতে হয়। তার উপর করোনার সতর্কতার কারণে বারেবার বের হওয়া সম্ভব হবে না। তাই দরকারেই ঔষধ কিনছি কিন্তু পরিমানটা একটু বেশী নিচ্ছি এবং যে ঔষধগুলো ঘরে না থাকলেই নয়, সেগুলো নিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। ঔষধের দাম কতো বাড়লো তা বড় কথা নয়। সাধারণ ঔষধগুলো পাওয়া যাবে কি না এটাই বড় প্রশ্ন। তাই এখন যতটা সম্ভব রানিং ঔষধগুলোও নিয়ে রাখতে চাইছি।
 

বন্দর থেকে আসা নির্মলা বলেন, এখনো বেশ কিছু গাড়ি (যানবাহন) চলছে। যদি গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ঔষধ নেওয়ার জন্য এখানে আসাও সমস্যা হয়ে যাবে। নদী পাড় হওয়াও আমাদের জন্য অনেকটা ঝামেলা। তাছাড়া পরে বিক্রেতারা যদি তাদের ইচ্ছে মতো ঔষধের দাম বাড়ায়, তাই আগে থাকতেই কিছু কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ ঘরে রাখতে চাইছি। এখনই অনেক ঔষধ বিশেষ করে এন্টিসেপ্টিকগুলো মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে না।
 

এখানকার বিভিন্ন ঔষধের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হেক্সাসল, সেভলন, সিভিটসহ নাপা গ্রুপের ঔষধগুলি বিশেষ করে নাপা এক্সটেন্ড এর ঘাতটি আছে। এর কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, হঠাৎ করে এইসব ঔষধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে এই ঔষধগুলো মানুষ অধিক হারে কিনে নেয়ায় এই ঘাটতি দেখা যায়।