শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২০ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী স্নান বাতিল

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ১১:০৭ এএম, ২১ মার্চ ২০২০ শনিবার

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে পুরাতন ব্রক্ষপুত্রে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের বার্ষিক অষ্টমী স্নানোৎসব বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ ১ লা এপ্রিল এ উৎসব হওয়ার কথা ছিলো। এ উৎসবে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের আট থেকে দশ লাখ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। 

 

শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সাড়াদেশে সকল ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। 


এ নির্দেশনাটি আমরা এর মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের সকল ইউএনও এবং ওসিদের জানিয়ে দিয়েছি। নারায়ণগঞ্জে প্রতিবছর হওয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের লাঙ্গলবন্দ অষ্টমী স্নানোৎসব বাতিল করতে আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের অনুরোধ জানিয়েছি। তারাও এটি মেনে নিয়ে উৎসব বাতিল করেছেন। 


মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক সুজিৎ সাহা জানান, আগেই আমরা উৎসবের পরিসর ছোট করার চিন্তা করছিলাম। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশের সাথে আমরা একমত। 


জেলা প্রশাসন আমাদের এ নির্দেশনা জানানোর পর আমরা ভক্তদের অনুরোধ জানাচ্ছি এবারের উৎসবে না আসতে। ভক্তদের সেবায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাঙ্গলবন্দে ত্রিশ-চল্লিশটি ক্যাম্প বসে। 


যারা এ সেবা দিতে আসেন তাদের আমরা ফোন দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছি না আসার জন্য। পরিস্থিতি নিয়ে আমরা স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের সাথে একটি জরুরি সভা করবো।


হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে গোসল করে মাতৃ হত্যার পাপমুক্ত হন। এরপর তিনি এ পবিত্র পানি লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে সমভূমিতে নামিয়ে আনেন। টানা লাঙ্গল চষে যেখানে এসে তিনি লাঙ্গল থামান বা বন্দ করেন সে স্থানটির নাম ‘লাঙ্গলবন্দ’। 


এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় পড়েছে। প্রতিবছর চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে লাখ লাখ ভক্ত পাপমোচনের আশায় এখানে এসে পুরনো ব্রক্ষ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান করেন। এ উপলক্ষে এখানে বসে সাতদিনের অষ্টমী মেলা।