মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৭ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আবরার হত্যায় বুয়েট ছাত্রলীগের দুই নেতা আটক

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ০২:০০ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


সকালে এ ঘটনায় আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকবাজার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া দুজন হলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন। তাঁরা দুজনই বুয়েটের শিক্ষার্থী। শের-ই-বাংলা হলে থাকেন।


এদিকে ফাহাদ যে কক্ষে ছাত্রলীগ নেতাদের পিটুনির শিকার হন, সেই কক্ষের শিক্ষার্থীরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ওই কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। যে তিনজন পলাতক তাঁরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকাল। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যিনি দুর্গাপূজার ছুটিতে দুই দিন আগে গ্রামের বাড়িতে গেছেন।


রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। পরে দিবাগত রাত তিনটার দিকে হলের দোতলা ও নিচতলার মাঝামাঝি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।


মারা যাওয়া আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে তাঁকে হলের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বুয়েটের শেরে বাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী একদল নেতা-কর্মী তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।


হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তাঁরা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।


এদিকে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মিছিলটি বের হয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরছে। মিছিল থেকে স্লোগান আসছে, উই ওয়ান্ট জাস্টিস (আমরা বিচার চাই)।


হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, 'রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আমরা এখনও নিশ্চিত নই। আমি এটা বলতে চাই যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের তদন্তে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে না। ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'