শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

জাপা নেতা পিজা শামীমকে মারধর করলেন সেলিম ওসমান (অডিওসহ)

যুগের চিন্তা

প্রকাশিত : ১২:২৩ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : পিজা শামীম হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি নেতা শামীম হায়দারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালি, এর সাথে একের পর এক চড়-থাপ্পড়...... মারতে থাকেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের (সদর-বন্দর) সাংসদ সেলিম ওসমান। 

উত্তেজিত অবস্থায় সাংসদ বলেন, একদম খাইয়া ফালামু। আবার গালি দিয়ে তিনি বলতে থাকেন যারা এইগুলা সৃষ্টি করছে কাউরেই... যা থানায় গিয়া জিডি কইরা রাখ আমার নামে..। আবার গালি.. আবার মাইর.. আবার গালি.. আবার মাইর.. (তুই আমারে জিগাইলি..) রঙ্গ.... কাউরেই আমি ছাড়মু না .. ধরপাকড়...

পিজা শামীম হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি নেতা শামীম হায়দারকে এমপি সেলিম ওসমান এভাবেই মারধর করলেন বলে জানান জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। পিজা শামীম অস্বীকার করলেও বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে নম পার্কে উপস্থিত জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী জানাচ্ছেন এমন একটি ঘটনার কথা।

পিজা শামীম জানিয়েছেন, এমপি সেলিম ওসমানের সাথে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে রামার বাগ এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ( নম পার্কেও) জাতীয় পার্টির একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

রাত পৌঁনে নয়টায় কর্মী সভা শেষে এমপি সেলিম ওসমান, শামীম হায়দার ওরফে পিজা শামীম, আবু জাহের চেয়ারম্যান, গোগনগরের জাতীয় পার্টি নেতা মজিবর এক সাথে বসে ছিলেন। এসময় সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাও ছিলেন। 

গোগনগরের জাতীয় পার্টি নেতা মজিবরের সাথে পিজা শামীমের কোনো টাকা নিয়ে কথা হচ্ছিলো। এসময় পিজা শামীম এমপি সেলিম ওসমানকে ‘দোস্ত’ সম্বোধন করে কিছু বলার চেষ্টা করেন। 

এসময় হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে এমপি সেলিম ওসমান পিজা শামীমকে প্রথমে দুইটি চর মারেন। এরপর কিছুক্ষন সেলিম ওসমান মনোনয়নের ক্ষেত্রে পারভীন ওসমানের বিরোধীতার বিষয়টি তুলে পিজা শামীমকে গালিগালাজ করে আরো বেধড়ক মারতে থাকেন।

ঘটনার সময়  সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না সাংবাদিকদের কোনো ছবি তুলতে বাধা দেন। পরে সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে কোনো নিউজ না করার জন্য শাসানো হয়।

ঘটনার ব্যাপারে শামীম হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেলিম আমার বন্ধু। আমার ক্লাসমেট। পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। আমাকেও সে বলেছে তাকেও আমি বলেছি। এ নিয়ে উত্তেজনা হয়। এর বাইরে কিছু হয়নি। আমাদের দেখা হলে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, আমি নাসিম ভাইকে ভালবাসতাম। তাকেও ভালবাসি। আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।