খুলছে ক্যাম্পাস, ছাত্র সংগঠনগুলো যা ভাবছে

প্রকাশিত: ১৫:১৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

খুলছে ক্যাম্পাস, ছাত্র সংগঠনগুলো যা ভাবছে

স্কুলের পাশাপাশি অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ছাত্র সংগঠনগুলো। দেড় বছরের যাবতীয় সাংগঠনিক ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার আশাও দেখছেন ছাত্রনেতারা। ক্যাম্পাস খোলার পর ছাত্রলীগের প্রথম পরিকল্পনা হলো ফ্যাকাল্টি ও বিভাগীয় কমিটি দেওয়া। গণরুম বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করা, অস্বচ্ছলদের পাশে দাঁড়ানোসহ আরও কিছু পরিকল্পনা আছে তাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আমাদের সকল কার্যক্রম কেন্দ্রে থাকবে। যেহেতু হল বা ফ্যাকাল্টি কমিটিগুলো হয়নি তাই বিভাগীয় কমিটিগুলোও হয়নি। সম্মেলনের মাধ্যমে মেধাবীদের হাতে বিভিন্ন সাংগঠনিক নেতৃত্ব তুলে দিতে চাই। এটিই আমাদের প্রধান সাংগঠনিক লক্ষ্য। এর বাইরে শিক্ষার্থীরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালাবো। ‘গণরুম’ তুলে দেওয়ার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিট পায় সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও আছে আমাদের।ছাত্রদল আপাতত সীমিত পরিসরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা ও দলীয় কর্মী সংগ্রহে প্রচার চালানোর চিন্তা করছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতেও কাজ করবে বলে জানিয়েছে তারা। ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমার সীমিত পরিসরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবো। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যরক্ষা নিশ্চিতেও সহযোগিতা করবো।’ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল টার্গেট গণরুম-গেস্টরুম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। এ ছাড়াও, করোনাকালীন যাবতীয় ফি মওকুফ, রেজিস্ট্রার ভবনে শিক্ষার্থী হয়রানি বন্ধ করা নিয়েও কাজ করার চিন্তা-ভাবনা আছে তাদের। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘প্রশাসন বলেছে গণরুম উঠিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট দেবে। আমরা এ নিয়ে সন্দিহান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ পর্যন্ত অনেকবার পদক্ষেপ নিয়েও এ কাজ করতে পারেনি। যতদিন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত না হবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবো। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সংকট- যেমন রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, করোনার সময়ের নেওয়া উন্নয়ন ফি; এসব নিয়ে কাজ করবো। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিতের জন্যও আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বর্তমান ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন বলছে গণরুম থাকবে না। এরপর শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কমবে কিনা তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। করোনাকালে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফি-সহ অনেক ফি আদায় করা হয়েছে। দুই-একটা খাতে ফি মওকুফ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠিকই নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া দরকার।’ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, ‘ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম যেমন, পাঠচক্র, টিউনিংসহ ইস্যুভিত্তিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব।’ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলা নিয়ে আমাদের আট দফা দাবি আছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারিনি। তা সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’