পদত্যাগে বাধ্য ব্যাংককর্মীদের চাকরি ফেরত দিতে নির্দেশ

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

পদত্যাগে বাধ্য ব্যাংককর্মীদের চাকরি ফেরত দিতে নির্দেশ

যেসব ব্যাংককর্মী গত দেড় বছরে (২০২০ সালের ১ এপ্রিল-১৫ সেপ্টেম্বর  পর্যন্ত) চাকরিচ্যুত হয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন তাদের  পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোর কাছে এইসব কর্মীদের তথ্য জানতে চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবৃদ্ধি ও নীতি বিভাগে পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনওঅভিযোগ না থাকলে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না। শুধু তাই নয়, কোভিডকালীন শুধুমাত্র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণ প্রদর্শন করে কর্মীদের বরখাস্ত বা পদত্যাগ করতে বাধ্য করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে,  গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের যেসব কর্মী সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত হয়েছে বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে তাদেরকে (আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে) বিধি মোতাবেক চাকরিতে বহাল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কোভিডকালীন শুধুমাত্র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করা বা অদক্ষতার অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে ও চাকরি হতে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বলছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে পদত্যাগ করার পর কর্মীদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাও প্রদান করা হচ্ছে না। সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিতকরণে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে বিপুল অংকের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে যা তফসিলি ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নসহ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে গিয়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকুরীচ্যূত করা হলে ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হবে এবং তাদের মনোবল ও কর্মস্পৃহা হ্রাস পাবে। ফলে, ভবিষ্যতে মেধাবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ব্যাংকে যোগদানে অনীহা প্রকাশ করবে যা দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে মর্মে আশংকা করা হচ্ছে।