প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব কেন

প্রকাশিত: ১৪:২০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব কেন

গেল ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে করোনার র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়েনি। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান ল্যাব স্থাপন করবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে তা বাছাই করতেই যাচ্ছে সময়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ল্যাব সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কবে নাগাদ ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হবে জানতে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের। মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠালেও সাড়া দিচ্ছেন না কেউ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ আরব আমিরাত প্রবাসীরা। গতকাল সোমবারও (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন তারা। আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরে সামনে আমরণ অনশন করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। প্রবাসী কর্মীরা বলছেন, আগস্ট মাসে আরব আমিরাত জানিয়েছে- কোনও দেশের বিমানবন্দরে ল্যাব না থাকলে সে দেশের নাগরিকরা আমিরাতে যেতে পারবেন না। এর এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য অধিদফতর ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি। প্রবাসীরা আন্দোলন করার পর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি নির্দেশনা দিলেন, তাতেও গড়িমসি। এ কারণে দেশে আটকে পড়া ৪০ থেকে ৫০ হাজার প্রবাসী কর্মী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অথচ নেপাল, পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও এক মাস আগেই ল্যাব স্থাপন করেছে, তাদের কর্মীরা আরব আমিরাতে যেতে পারছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে করোনার র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হবে। সেদিন (৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সূত্র জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরে বিমানবন্দরে র‍্যাপিড আরটি পিসিআর চালুর বিষয়ে কারিগরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মো. খুরশিদ আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তের অনুলিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে ল্যাব স্থাপনে আগ্রহী ২৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। একাধিক প্রতিষ্ঠানকে ল্যাব স্থাপনের অনুমতি দেওয়া, বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনে ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে তাও নির্দেশনায় বলা হয়েছে। সূত্র জানায়, কারিগরি কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার নেতৃত্বাধীন মূল কমিটি। তবে কবে সেই কমিটির বৈঠক হবে তা এখন জানা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে লোকমান হোসেন মিয়ার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিয়ম অনুসারে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাস্থ্য কেন্দ্র থাকার বিধান রয়েছে। যাত্রী, দায়িত্বরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, বিমানবন্দরের স্যানিটেশন, ফিউমিগেশন ও আগত যাত্রীদের মধ্যে সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্তদের শনাক্ত করাসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল নিয়োগের দায়িত্বও স্বাস্থ্য অধিদফতরের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারিগরি কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথমেই প্রস্তাব করা হয়েছিল সরকারি ব্যবস্থাপনায় ল্যাব স্থাপন করতে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাতে রাজি হয়নি। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে হচ্ছে। কিন্তু ল্যাব স্থাপন ও পরিচালনায় সক্ষম, যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দিলে পরবর্তী সময়ে আরও জটিলতা বাড়বে। প্রথমে ডিএমএফআর নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে নানা রকম তদবির আসে। কিন্তু তাদের তথ্য ও সক্ষমতার ঘাটতি আছে। তাদের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে আগ্রহী সকল প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারিগরি কমিটি সুপারিশ মূল কমিটিকে পাঠিয়েছে, তারা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।