খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসায় বিএনপিকে যে পরামর্শ দিলো আ. লীগ

প্রকাশিত: ১৪:১৮, ২৫ নভেম্বর ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসায় বিএনপিকে যে পরামর্শ দিলো আ. লীগ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিয়ে নজির সৃষ্টি করতে চায় না সরকার। নির্বাহী আদেশে যতটুকু করার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ছিল তার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তিনি খালেদা জিয়াকে দিয়েছেন। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

খালেদার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুজব ডালপালা গজালেও সরকারের অবস্থান হলো—খালেদার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারের হাতে আর পথ খোলা নেই। বিএনপি নেতাদেরও তা ভালো করে জানা আছে বলে দাবি করছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা।

সূত্রগুলো আরও জানায়, চিকিৎসার প্রয়োজনে খালেদাকে বিদেশ যদি যেতেই হয় তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা রাষ্ট্রপতির অনুগ্রহ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। আইনে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাহী আদেশের দিকে তাকিয়ে বিএনপি মূলত খালেদার বিদেশে চিকিৎসা পাওয়াটা বিলম্বিত করছে। এটা তাদের রাজনীতি। 

সূত্রগুলো আরও জানায়, নির্বাহী আদেশে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করলে তা রেফারেন্স হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। তখন ভবিষ্যতে অনেককে এমন সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি হতে পারে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার ও আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সহানুভূতিশীল। এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রীকে জানান, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগোলেই হয়। ওই মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে চিকিৎসা চাইলে অন্য যে পথ খোলা রয়েছে, বিএনপি নিশ্চয়ই সেটা অনুসরণ করতো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আইন মানতে হবে। সরকার প্রধান শেখ হাসিনার হাতে থাকা ক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু দেখিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিক। একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি যতটুকু যত্নশীল ও মানবিক হওয়া সম্ভব, তারচেয়েও বেশি মানবিক আচরণ করা হচ্ছে। সকল আইন ও বিধির ঊর্ধ্বে গিয়ে সাজাপ্রাপ্ত একজন কয়েদির সঙ্গে ফাতেমা নামের এক নির্দোষ নাগরিককে কারাবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাকে বাসায় থেকে এবং দেশের অভ্যন্তরে পছন্দমত যে কোনও হাসপাতালে যে কোনও চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে তার অসুস্থতাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক খেলায় মত্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিআরপিসির ৪০১ ধারাতেই বিএনপি নেতারা ঘুরপাক খাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার জীবনের মূল্য তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলে আদালতে যেতে পারতেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ আনুকূল্যে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ আছে। সে পথে হাঁটতে পারতেন। আমার জানা মতে, বিএনপিতে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী আছেন। তাদের দায়িত্ব দিলে তারা পথ দেখাতে পারবেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া যেভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, সেপথে বিএনপি এখনও যায়নি। তার চিকিৎসাকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যাপার এড়িয়ে তারা নির্বাহী আদেশ কেন চায়, এটা অস্পষ্ট।’

দলের সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সরকার ও দলের মুখপাত্ররা সবসময়ই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চক্রান্ত করছে বলেই বিদেশে যাওয়ার পথ অনুসরণ করছে না।