মঙ্গলবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৪   বৈশাখ ১০ ১৪৩১

মহামারী রূপ নিয়েছে মাদক

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৭   আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৭

যুগেরচিন্তা২৪.কম: ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এক সময় সুদর্শন ও স্মার্ট ছিল মিঠু নামে এক যুবক। এরশাদ সরকারের সময়ে তার পরিহিত পোশাক দেখলে অন্যরা বিষ্মিত হত। তবে মাদকের নীল দংশনে শেষতক তার করুণ পরিণতিও দেখেছিল মানুষ। অনেকটা ভিখারির বেশে তাকে চলতে ফিরতে দেখা যেত। বন্দরের মদনগঞ্জ ইসলামপুর গ্রামের সু-স্বাস্থ্যবান ওমর আলী লম্বায় ছিলেন প্রায় ছয় ফুট। তবে মাদক সেবন করে তার মৃত্যু হয়েছিল আর জীবনের শেষ দিনগুলো খুব কষ্টে কাটাতে হয়েছিল। সত্যিকারের এমন ঘটনা আরো রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে। মাদকের কারণে অনেকের জীবন, পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। এ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ সোচ্চার হলেও মাদক এখন মহামারী রূপ ধারণ করেছে। মাদক বিক্রির সাথে ছিচকে থেকে শুরু করে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও প্রকাশ হচ্ছে। কেউ কেউ আঙ্গুল তুলছেন প্রশাসনের কতিপয় সদস্যের দিকে। মঙ্গলবার জেলা পুলিশ লাইন্সে কমিউনিটি পুলিশিং মহা সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী,জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল হাই ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। একই মঞ্চে তাদের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন কেউ কেউ। তবে গতকাল দিনভর শহর ও আশপাশের এলাকায় তাদের বক্তব্যের সমর্থন করে আলোচনা করেছেন সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে বিশিষ্টজনরা বলেছেন পুলিশ ইচ্ছে করলে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে পারেন।  মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য সমর্থন করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, পুলিশ চাইলে এমন কোনো কাজ নেই যে তারা পারে না। এখানে সদিচ্ছার ব্যাপার। জঙ্গি দমনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসর করছে। এতে করে তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণও দিচ্ছে। যা প্রশংসনীয়। ফলে এতেই বোঝা যায়, মাদকের ব্যাপারে তারা আন্তরিক হলে ৭ দিনের মধ্যেই মাদকমুক্ত করা সম্ভব। এছাড়া মাসুম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যকেও সমর্থন করে বলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে মাদক বিক্রেতাদের সখ্যতা রয়েছে। তার এই বক্তব্যের বিপরীতে যে তিন এমপি দ্বিমত পোষণ করেছেন তারা পুলিশকে খুশি করতে চেয়েছেন। তাছাড়া অনেক জনপ্রতিনিধির সাথেও মাদক বিক্রেতাদের সখ্যতা রয়েছে। তারা সরাসরি লীডও দিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল যুগের চিন্তাকে বলেন, ৭ দিন নয় পুলিশ চাইলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাদক নির্মূল করতে পারে। এটা সদিচ্ছার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক এখন মহামারী রূপ ধারণ করেছে। কাউন্টার বসিয়ে মাদক বিক্রি, পুলিশের উপর মাদক বিক্রেতাদের হামলার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওদের পেছনে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের শেল্টার রয়েছে। তাই অনেক সময় পুলিশও অসহায় হয়ে পড়ে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মোহাম্মদ আলী ও আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যকে পূর্ণসমর্থন দিয়ে বলেন, তারা যা বলেছে তা যথার্থ। পুলিশ ইচ্ছে করলে ৭ দিনের মধ্যেই মাদকমুক্ত করা সম্ভব। তবে কেউ কেউ বলছেন, অনেক সময় পুলিশ অসহায় হয়ে পড়ে। মাদক বিক্রেতা ধরলে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবানরা তদবীর করে। মাদক বিক্রেতাদের ধরে কোর্টে চালান করলেও এক শ্রেনীর দালাল বাকীতে জামিন করায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে মাদক বিক্রি করে ওই দালালদের বেশী টাকা প্রদাণ করে মাদক বিক্রেতারা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কমিউনিটি পুলিশিং মহা সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেছেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে ৭ দিনের মধ্যে মাদক নির্মুল করতে পারে। তিনি আরো বলেছেন, বর্ডার গার্ড ঠিকমত দায়িত্ব পালন করলে দেশে মাদক ঢুকতেই পারবে না।  একই সমাবেশে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও বলেছেন, কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মাদক বিক্রেতাদের আঁতাত রয়েছে। তার বক্তব্যের বিরোধীতা করেছেন সভামঞ্চে উপস্থিত তিন এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আব্দুল হাই মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, তিনি যা বলেছেন তা ঠিক আছে। তবে এতো তাড়াতাড়ি হয় তো সম্ভব না। কিন্তু পুলিশ চাইলে মাদকমুক্ত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অবশ্য পরিবারকেও এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রয়াস হলে মাদক নির্মূল তরান্বিত হবে।
এই বিভাগের আরো খবর