বেনাপোলে আটকা ভারতফেরত যাত্রীরা

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ৬ নভেম্বর ২০২১

বেনাপোলে আটকা ভারতফেরত যাত্রীরা

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার (০৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো বেনাপোল দিয়ে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে ছোট ছোট যান চলতে দেখা যায়। গণপরিবহন না চলায় জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পড়েছে বিপদে। নিরুপায় হয়ে অনেকে বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। 

ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রীরা। শুক্রবার সকাল থেকে যাত্রীরা দেশে এসে পড়ছেন বিপাকে। আবার যাদের কাছাকাছি আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি; তারা সেখানে যাচ্ছেন। সব থেকে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন দূরের যাত্রীরা। পর্যাপ্ত টাকা-পয়সা না থাকায় আবাসিক হোটেলে থাকতে পারছেন না যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল-যশোর সড়কে কোনও বাস চলছে না। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকচালকরা। যেখানে ভাড়া ১৫ টাকা ছিল, সেখানে ২৫-৩০ টাকা নিচ্ছেন। তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল করলেও সংখ্যা অনেক কম।

এদিকে, একটানা বন্ধ থাকলে বড় অসুবিধা হবে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। বেনাপোল বন্দরের খালাসকৃত পণ্য গন্তব্যে পৌঁছতে না পারলে দেশের কল-কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ভারত থেকে দেশের শিল্প কল-কারখানার সিংহভাগ পণ্য আসে। শুক্রবার পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। আগামী দিনেও যদি ধর্মঘট থেকে যায় তবে আমদানিকৃত কাঁচা পণ্য ঢাকা-চট্টগ্রামহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাবে। 

সাধারণ যাত্রীদের দাবি, দ্রুত যেন পরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ইজিবাইকচালক বাবুল হোসেনকে ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, পরিবহন বন্ধ থাকায় আয় একটু বেশি হচ্ছে। তবে খরচও বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেশি ভাড়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছি।

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ৪ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেয় বিভিন্ন জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠন। তারা জানান, জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম না কমানো ও বাস ভাড়া সমন্বয় না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি চিকিৎসা শেষে বেনাপোল এসে পড়েছি দুর্ভোগে। আমি এবং আমার স্ত্রী চেন্নাই থেকে ফিরে পরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়ি যেতে পারছি না। দেশের বাইরে প্রায় ১৫ দিন থাকায় টাকা ফুরিয়ে গেছে। এমন চললে আমাদের চরম সমস্যা হবে।

benapole2
ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রীরা
খুলনার রেহেনা খাতুন বলেন, আমি পরিবহন কাউন্টারে বসে আছি। যদি গাড়ি না ছাড়ে কীভাবে বাড়ি যাবো বুঝতে পাচ্ছি না। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে বিপদে পড়েছি।

বেনাপোল এসবি পরিবহনের ম্যানেজার সাগর হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া সমন্বয় অথবা তেলের মূল্য না কমা পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ থাকবে। আমাদের দাবি, তেলের মূল্য যখন বাড়ছে তখন ভাড়াও বাড়বে। নতুবা তেলের মূল্য কমাতে হবে। সরকার এই সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত দেশের সব জেলায় পরিবহন বন্ধ থাকবে।

শ্রমিকনেতারা বলছেন, করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাপনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। করোনার প্রকোপ কমলেও মানুষের জীবনযাত্রা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। অধিকাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। কারণ ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ায় পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। বাড়বে সব ধরনের পণ্যের দামও।

যশোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে পরিবহন খাতের। এই সময়ে তেলের দাম এক লাখে ১৫ টাকা বৃদ্ধি একপ্রকার জুলুম। শ্রমিক ফেডারেশনের সারাদেশের ২০০ শাখা ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিজেলের দাম না কমানো ও বাস ভাড়া সমন্বয় না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।