করোনার নতুন ধরন ‘এক্সই’ ১০ গুণ বেশি সংক্রমক

প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ৭ এপ্রিল ২০২২

করোনার নতুন ধরন ‘এক্সই’ ১০ গুণ বেশি সংক্রমক

ভারতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন 'এক্সই' শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (৬ এপ্রিল) দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মুম্বাইয়ে আসা ৫০ বছর বয়সী একজন নারীর করোনা পরীক্ষা করে নতুন এই ধরণ শনাক্ত হয়। ‘এক্সই’ ভেরিয়েন্ট ভারত ছাড়াও ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডেও শনাক্ত হয়েছে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানায়, নতুন মিউটেশন সম্পর্কে বেশি কিছু বলার আগে এটি সম্পর্কে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুম্বাই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, আক্রান্ত নারী করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকাই নিয়েছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি যখন ভারতে আসেন তখন তার করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না এবং পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে। তবে, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফলে তার একটি নমুনায় 'এক্সই' ধরন পাওয়া যায়।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ধরনটিকে এখন পর্যন্ত পাওয়া ধরণগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি সংক্রামক বলে অভিহিত করেছে। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ধরন ওমিক্রন। এই ধরনের আবার তিনটি উপ-ধরন রয়েছে ‘বিএ.১’, ‘বিএ.২’ এবং ‘বিএ.৩’। তবে ‘বিএ.৩’ ধরনের সংক্রমনের বিষয়টি সবচেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে। ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলাকালীন সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে ‘বিএ.১’ এবং ‘বিএ.২’ উপ-ধরনটির। বিশেষ করে ‘বিএ.২’ ধরনটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলাকালে ভারতে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হন। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, নতুন শনাক্ত হওয়া ‘এক্সই’ধরনটি ‘বিএ.২’ উপ-ধরনের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। ‘এক্সই’ ভেরিয়েন্টকে 'রিকম্বিন্যান্ট' বলা হচ্ছে। এর অর্থ এটিতে ‘বিএ.১’ এবং ‘বিএ.২’ ওমিক্রন উপ-ধরনের মিউটেশন আছে। করোনার এ ধরনটি প্রথম যুক্তরাজ্যে জানুয়ারি মাসে আবিষ্কৃত হয়েছিল। ইতোমধ্যে এতে ৬০০ বেশি মানুষ আক্রন্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরন ওমিক্রনের ‘বিএ.২’ রূপের চেয়েও কিছুটা বেশি সংক্রামক। কিন্তু এটিতে মৃত্যু ঝুঁকি যে বেশি এমনটা বলার সময় আসেনি।  প্রাথমিকভাবে গবেষকরা মনে করছেন, ‘এক্সই’ ধরনের মৃত্যু ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাথমিকভাবে এই রোগটিতে আক্রান্তদের জ্বর, গলাব্যথা, গলা খসখসে, কাশি এবং সর্দি, ত্বকের জ্বালা, বিবর্ণতা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হতে পারে।  এছাড়া গুরুতর কিছু উপসর্গের কথাও জানা গেছে। সেগুলো হল- হৃদরোগ, বুধ ধড়ফড়, এবং কখনো কখনো ভাইরাসটি গুরুতর স্নায়ু রোগের কারণও হতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস