বইপোকা তোয়াব খান হাতের কাছে পেলে পড়ে নেন যেকোনো কিছু

শেখ সাইফুর রহমান

প্রকাশিত: ০৩:৩১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১০:১৮, ১৯ এপ্রিল ২০২১

বইপোকা তোয়াব খান হাতের কাছে পেলে পড়ে নেন যেকোনো কিছু

তোয়াব খান

তিনি কেবল সাংবাদিক নন, নিশ্চিতভাবেই সাংবাদিকদের সাংবাদিক। পেশাগত জীবনে ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে তিনি আজ এক প্রতিষ্ঠান। ভূয়োদর্শী মানুষটি অন্তরে আর বাইরে সমান আধুনিক। সেই প্রতিফলন তাঁর পেশা ও ব্যক্তিজীবনের প্রতি পরতে।

মিডিয়ার মহীরূহপ্রতিম এই মানুষটির পথচলা অন্তবিহীন। স্মার্ট আর স্টাইলিশ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সম্প্রচারিত ভাষ্য ‌'পিন্ডির প্রলাপ', দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত উপসম্পাদকীয় 'সত্যমিথ্যা-মিথ্যাসত্য' আর একমাত্র গ্রন্থ ' আজ এবং ফিরে দেখা কাল' প্রমাণ কর তাঁর লেখনিও নির্মেদ, তীক্ষ্ণ। যদিও লিখেছেন কম, লিখিয়েছেনই বেশি। অনুসরণীয় দুটোই। 

একজন তোয়াব খানকে আসলে আবিষ্কার করতে হয়। কারণ ৮৬ বছরের কোনো মামুলি জীবন তো নয়। একটা ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনকালে শুরু যে পথের, তা আজও সমানে চলছে। নানা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পটপরির্তন আর বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে সঙ্গে নিয়ে, সেই অভিজ্ঞতায় নিজেকে ঋদ্ধ করে। সময়ের সঙ্গে নিজের সঠিক অভিযোজনে। এজন্যই তিনি সমসাময়িক। আধুনিক। 

বইপোকা তোয়াব খান হাতের কাছে পেলে পড়ে নেন যেকোনো কিছু। চেষ্টা করেন তা থেকে শিক্ষা নিতে। সাংবাদিকদের সম্পর্কে পুরনো ধ্যান-ধারণাকেও তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়ে। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে একেকটি মাইলফলক রচিত হয়েছে তাঁরই নেতৃত্বে। প্রথম চাররঙা সংবাদপত্র এর মধ্যে একটি। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘সবসময়ে পাঠকরাই আমার প্রাইমারি কনসার্ন।'

বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান বলতে যা বোঝায়, তার শেষ সলতে তোয়াব খান। আজ তাঁকে আজীবন সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। অভিনন্দন তোয়াব ভাই।