হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

মোঃ রিদুয়ানুল হক

প্রকাশিত: ২০:৪০, ২৩ অক্টোবর ২০২১

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

সময়টা ২০১০ সাল। রফিক সাহেব তার পুরো পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার প্ল্যান করছেন অনেকদিন ধরেই। কিন্তু সবার সময়ের মিলটা ঠিক একসাথে হয়ে উঠছিলো না দেখেই যাওয়াটা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু এবার সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে বেশ বড় একটা ছুটি সবাই একসাথেই পেয়েছে, তাই সুযোগটা আর হাতছাড়া করতে চাইছেন না তিনি। পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন বলেই একটু ভালো হোটেল এ উঠতে চাইছেন এবার, যেখানে রুমগুলো বড় এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। 

তিনি কল করলেন তার পরিচিত একটি বড় হোটেলেই। জানতে চাইলেন যে তার ওই তারিখের মধ্যে ভালো কোনও রুম অ্যাভেইলেবল আছে কিনা। হোটেল রিসিপশন থেকে পাওয়া উত্তরটা শুনে কিছুটা হলেও একটু ভড়কে গেলেন। সরকারি এবং সাপ্তাহিক ছুটি পরপর হওয়াতে প্রচুর মানুষ নাকি হোটেল রুমের খোঁজ করছেন এবং যে যেটা অ্যাভেইলেবল পাচ্ছেন, নিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় রফিক সাহেবের মন মতো রুম পাওয়াটা নাকি বেশ কঠিন হবে। পাওয়া গেলেও, তাকে বেশ অনেকখানি টাকা খরচ করতে হবে। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারলেন যে হোটেলে দুটো রুম রফিক সাহেবকে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা প্রচুর হওয়াতে তাকে পরিশোধ করতে হবে বেশ চড়া দাম, যা কিনা স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি। রুমের সাইজটা কেমন, অন্যান্য কী কী ফ্যাসিলিটি আছে, লেট চেক আউটের ব্যবস্থা করা সম্ভব কিনা, এমন কী রুম নেওয়ার সাথে হোটেলের অন্যান্য কী কী সুযোগ সুবিধা তিনি পাবেন, তার কিছুই তিনি জানতে পারলেন না। তাকে জানানো হল, সব কিছু নাকি রুমে চেকইন করার পর নিজেই বুঝতে পারবেন। খানিকটা সংকোচবোধের পরেও রফিক সাহেব তার পরিবারের কথা চিন্তা করে রুম ২টি বুক করেই ফেললেন, পরে যদি এটাও না পাওয়া যায় এই ভয়ে। 

হোটেলে চেকইন করার পর তো তিনি বেশ বিব্রতই হলেন। যেমনটা তিনি আশা করেছিলেন, রুমগুলো তেমন নয়। এতো বড় হোটেলের রুমগুলোতে তিনি বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা আশা করেছিলেন যার কোনটিই তিনি পাচ্ছেন না প্রচুর পর্যটক হওয়াতে। সি ভিউ রুম তো পাননি, উল্টো যে রুমটা তাকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বারান্দাই নেই কোনও। কিন্তু কিছু করার ছিল না তার এই ব্যাপারে, এই রুম দুটোই নাকি শুধু মাত্র অ্যাভেইলেবল ছিল। 

২০২০ সাল। রফিক সাহেবের ছেলে আদনান তার বাবা-মাসহ পুরো পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে যাবে কক্সবাজার। তার বাবা যাওয়ার দুদিন আগে ওকে জিজ্ঞেস করলেন, হোটেল কিছু ঠিকঠাক করা আছে কিনা। নাকি তিনি তার সেই এজেন্টকে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা করে দিতে বলবেন, আদনান তার বাবার কথা শুনে এবার একটু হেসেই ফেললো। অনলাইন ট্র্যাভেল বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলো যে ঘরে বসেই হোটেল বুকিং প্রসেসটা কতো সহজ করে ফেলেছে, তা বোধয় বাবা এখনও জানেনই না! 

বাবার সামনেই গো যায়ানের ওয়েবসাইটে লগইন করে প্রথমেই তার চেকইন এবং চেকআউট এর ডেটটা ইনপুট করলো আদনান। যথারীতি কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই ওই দিনগুলোতে পুরো কক্সবাজারে যতগুলো হোটেল গো যায়ানের ইনভেন্টরিতে ছিল, সবগুলো স্ক্রিনে চলে এলো। প্রায় সবগুলো হোটেলেই বেশ ভালো ডিসকাউন্ট গো যায়ানের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় বলেই এখান থেকেই সব ধরনের হোটেল বুকিং করে আদনান। যেহেতু পরিবার নিয়ে যাচ্ছে, তাই ফিল্টার অপশন থেকে আগেই সে ৪ স্টার এবং ৫ স্টার ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে নিয়ে সেই মানের হোটেলগুলো শর্ট লিস্ট করে ফেললো। রফিক সাহেব বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, যে রুমে কি কি ফ্যাসিলিটি আছে সেটা আগে থেকেই দেখে নেওয়া সম্ভব কিনা। আদনান ফোনটা বাবার হাতে দিয়ে ফিল্টার অপশন থেকেই ফ্যাসিলিটি লিস্টটা বের করে বললো কোন কোন সুযোগ সুবিধা তিনি চান, যেন একদম মন মতো সিলেক্ট করে ফেলেন। ব্রেকফাস্ট, সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার, লেটচেক আউটসহ আরও কতো রকমের সুযোগ সুবিধার কথা যে সেখানে দেওয়া আছে! রফিক সাহেব বেশ অবাক হলেন দেখে। এরপর নির্ধারিত সুযোগ সুবিধাগুলো সিলেক্ট করে যতগুলো হোটেলে সেসব অ্যাভেইলেবল আছে, তা চলে এলো। সেখান থেকেই একটা হোটেল সিলেক্ট করে আদনান বাবাকে জিজ্ঞেস করলো কী ধরনের রুম তার পছন্দ। রফিক সাহেব বললেন, হোটেলের কোন রুমটা তিনি চাইছেন, সেটাও সিলেক্ট করা সম্ভব? সি ভিউ থেকে শুরু করে হিল ভিউ রুম, টুইন রুম এবং ডিলাক্স কাপল রুম এমনকি জুনিয়র স্যুটও বুক করা সম্ভব নিজের পছন্দ অনুযায়ী ওয়েবসাইট এই। পুরো পরিবার নিয়ে যেন একসাথেই থাকতে পারে, আদনান একটা জুনিয়র স্যুট বুক করে ফেললো এবং সেই সাথে ওয়েবসাইটেই একটি এক্সট্রা বেড দিয়ে দেওয়ার অনুরোধটাও করে দিলো। এবার পেমেন্টের পালা, অনলাইনেই মোবাইলে ব্যাংকিং এবং কার্ড পেমেন্টের মধ্যে ডিসকাউন্ট অফারগুলো একটু দেখে পেমেন্ট কমপ্লিট করতেই ই-মেইলে চলে এলো কনফার্মেশন। এবার সেই মেইলটা বাবাকে দেখিয়েই বললো আদনান, এই ই-মেইলটা রিসিপশনে দেখালেই নাকি কাজ হয়ে যাবে, আর কিছু লাগবে না! রফিক সাহেব তো অবাক! 

দেশ জুড়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি হোটেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া গো যায়ান এ ইতোমধ্যেই আছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, কুয়াকাটা ও বান্দরবনের অধিকাংশ ৫ তারকা, ৪ তারকা ও ৩ তারকা হোটেল। রয়্যাল টিউলিপ, সায়েমান বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইস, সিগাল হোটেল, লং বিচ, সি ক্রাউন,  দ্য কক্স টুডে, গ্র্যান্ড সুলতান, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ফয়েজ লেক, রিসোর্ট আটলান্টিস, ট্রপিকাল ডেইজি, শিকদার রিসোর্ট, রোজ ভিউ, মোমো ইনসহ আরও স্বনামধন্য হোটেল যে কেউ বুক করতে পারবে অনলাইনেই! 

আর অনলাইন পেমেন্টে সকল সুবিধা এবং চমৎকার সব ডিসকাউন্ট নিয়ে গো যায়ানের সাথে পার্টনারশিপে এসেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি এমেক্স, ইবিএল, ইউসিবি, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, লঙ্কা বাংলা, বিকাশ এবং নগদ। 

হোটেল বুকিং এর অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে গো যায়ান কাজ করে যাচ্ছে ২০১৭ থেকেই। ভ্রমণ পিপাসুদেরকে ভ্রমণে আরও বেশি উৎসাহ দিতেই পুরো ভ্রমণ সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিয়ে আসা হয়েছে অনলাইনে, গো যায়ানের ওয়েবসাইটে। 

কোনও ঝামেলা ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যেকোনো হোটেল বুক করতে ক্লিক করুন এখানে এবং সেই সাথে হোটেল সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ভিজিট করুন বা কল করুন গো যায়ানের হট লাইন নাম্বারে ০৯৬৭৮-৩৩২২১১।