বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর

প্রকাশিত: ২১:০০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে।” টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেই শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে পারবে বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “২৭ সেপ্টেম্বরের পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে আবাসিক হলও খুলে দিতে পারবে।” বৈঠকে থাকা ইউজিসির সদস্য দিল আফরোজ বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর টিকার নিবন্ধন শেষ করতে বলা হয়েছে বৈঠকে। “বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নাই, তাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। এটা আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। এরপরে সুরক্ষা অ্যাপে জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে টিকার জন্য শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করতে পারবে।” দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে গতবছরের মার্চে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস শুরু হয়েছে। দেশের সব মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজেও সরাসরি ক্লাস শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবাইকে টিকার আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা এর আগে জানিয়েছিল সরকার।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে ক্লাস ও হল খোলার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে।

নিবন্ধনের বিশেষ ব্যবস্থা': বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর লক্ষ্যে মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল বৈঠকের কথা জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার টিকার নিবন্ধন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি আছে, কিন্তু টিকার জন্য নিবন্ধন এখনো করেননি, তারা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করে টিকা নেবেন। আর যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি নেই, তারা জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে জন্ম সনদ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করবেন। শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর তাদের সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।  বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ইউজিসির এই লিংক সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও শিক্ষার্থী নিবন্ধন লিংক পাওয়া যাবে। ইউজিসি আগামী বৃহস্পতিবার এ লিংকটি প্রকাশ করবে।  যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হয়, সে ক্ষেত্রেও তিনি জন্ম সনদ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন। যাদের জন্ম সনদও নেই, তারা আগে জন্ম সনদ করে নিয়ে তারপর শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করবেন। শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে।বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। কত দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া যায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে বলে সভায় জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহবিুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা  বিভাগের  সচিব  মাহবুব হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ,  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।