ঋণের কিস্তি পরিশোধে আরও সময় চান ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

ঋণের কিস্তি পরিশোধে আরও সময় চান ব্যবসায়ীরা

প্রথম ঢেউ কাটিয়ে উঠতে আবারও নতুনভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। বাংলাদেশের করোনার সংক্রমণ হার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সবার মাঝে এখন আতঙ্কের বিরাজ করছে। এটা মোকাবিলায় সরকারও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে। এই অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় আরও ৬ মাস বাড়ানোর দাবি করেছে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছে, ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ গেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা বন্ধ করে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তাতে হাজার হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ বেকার হয়ে পড়বে। এছাড়া অর্থনীতি বড় একটা ধস নেমে আসবে। ব্যাংক কর্মকর্তারাও মনে করছেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় আরও বাড়ানো উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যেহেতু এক বছর সময় দেওয়া হয়েছিল, সেহেতু এখন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে সময় আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দেশে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই দেশের অর্থনীতি সচল রেখে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলছেন তারা। সেইসঙ্গে, অর্থনীতি সচল রাখতে হলে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ বাড়াতে হবে। না বাড়ালে বিপাকে পড়বে দেশের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনো ভয়াবহ অবস্থা পার করছে। তাই ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়াতে খুবই জরুরি। পৃথিবীজুড়ে করোনার নতুন ভ্যারেন্টাইন অমিক্রন নিয়ে অজানা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এতে পৃথিবীজুড়ে অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারে কাছে গতবারের মত ঋণের কিস্তির সময় চাচ্ছি। বাংলাদেশ ব্যাংককে যত দ্রুত সম্ভব ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। সরকারের সহযোগিতার কারণে এ শিল্পের উদ্যোক্তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। রপ্তানি করা পণ্যের মূল্য পরিশোধে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সময় নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্রেতা সময়মতো মূল্য পরিশোধ করছেন না। নির্দিষ্ট সময়ে পেমেন্ট না পাওয়ার কারণে শিল্পে তারল্য সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তাই এই সংকটকালীন সময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে কিস্তির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের ব্যবসা- বাণিজ্য পুরোদমে চালু হয়নি। তাই মুহুর্তে ঋণের কিস্তি নেয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণের কিস্তির মেয়াদ আরো বাড়ানো উচিত। করোনার পরিস্থিতির সাথে ভীতির কারণ হিসাবে আরেকটি ধরণ যোগ হয়েছে তা হলো অমিক্রন। এই অবস্থায় অনেক বায়ার তাদের ক্রয় আদেশ বাতিল করে দিয়েছে। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারি বেতন দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই হলো চ্যালেঞ্জ।