মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ২৫ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা

প্রকাশিত: ১৬:১০, ২৫ নভেম্বর ২০২১

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ২৫ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা

মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে শঙ্কার কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। তিনি বলেছেন, এই সেবার নিরাপত্তার জন্য মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস- এমএফএসের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকে। বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ’ আয়োজিত ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। আহমেদ জামাল বলেন, ‘এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস  প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরগুলোর (পিএসও) পরিশোধ ও লেনদেন নিষ্পত্তি সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গ্রাহক বা মার্চেন্টের অর্থ কিছু সময়ের জন্য আমাদের জিম্মায় থাকে। ট্রাস্ট্র কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে (এমএফএসের) ৮ হাজার কোটি টাকা জিম্মায় আছে।  তাছাড়া সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণ করা অর্থের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য ‘গাইডলাইন্স ফর ট্রাস্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস’ শীর্ষক নীতিমালা প্রণয়ণ করা হয়েছে। সুতরাং, গ্রাহকদের কোনও সমস্যা হবে না মোবাইল ব্যাংকিংয়ে।’ এ সময় তিনি জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সামনের দিনগুলোতে এমএফএস সেক্টরে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে গড়ে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রতিদিন লেনদেন হয়।’ গোলটেবিল বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের বড় চালিকাশক্তি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটির বেশি এমএফএস অ্যাকাউন্ট এবং দুই হাজার কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশই নারী। এটা আমাদের জন্য দারুণ খবর।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের বড় সমস্যা হচ্ছে— প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৃহত্তম বাজার হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে প্রতারণার হার তুলনামূলক কম, এটা আমাদের জন্য ভালো খবর। তারপরও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। দরকার হলে প্রতিদিন টিভিতে ৫ মিনিট করে এ সংক্রান্ত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসফ) এর চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মানেই প্রযুক্তির বিপ্লব। প্রযুক্তির দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তারপরও কিছু চালাক লোক বিশ্বের সবখানেই থাকেন। চালাক লোকগুলো প্রযুক্তির অপব্যবহারে লিপ্ত হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দুর্বৃত্তায়নের চেষ্টা করলে এদের দমন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সেবাকে এগিয়ে নিতে হবে।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল এস কাদির, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. নিলুফা বানু প্রমুখ।