ফরিদপুরে বিপৎসীমার ওপরে পদ্মার পানি, ঝুঁকিতে ৩ বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১৭:৩৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফরিদপুরে বিপৎসীমার ওপরে পদ্মার পানি, ঝুঁকিতে ৩ বিদ্যালয়

পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পদ্মায় পানি বাড়ায় ফসলি জমি ডুবে গেছে, ভেঙে গেছে সড়ক। জেলার মধুমতী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ, গোপালপুর ও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন। টগরবন্দের চাপুলিয়া, আজমপুর, চর আজমপুর ও চরডাঙ্গা; গোপালপুরের গোপালপুর, দিক নগর, কাতলাসুর ও খোলাবাড়িয়া এবং পাচুড়িয়ার বাঁশতলা, পাচুরিয়া ও চাঁদরা গ্রামগুলোতে ভাঙন বেশি। এই তিন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, ইতিমধ্যে মধুমতী নদীগর্ভে চলে গেছে ১৩৮টি বসতভিটা। এ ছাড়া দুই একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান বলেন, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪৫টি ভিটাবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২ একর ফসলি জমি ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দুর্গতদের কোনো সহায়তা দেওয়া যায়নি। গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান বলেন, মধুমতী নদী ভাঙতে ভাঙতে বাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে চলে এসেছে। ভাঙন রোধ করা না গেলে স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। গত এক সপ্তাহে ওই ইউনিয়নে অন্তত ১০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাজরা এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাচুড়িয়া ইউনিয়নে চর নারাণদিয়া থেকে উত্তর চর নারাণদিয়া পর্যন্ত এক কিলোমিটারজুড়ে এবং উত্তর চর নারাণদিয়া থেকে দক্ষিণ চর নারাণদিয়া পর্যন্ত আরও এক কিলোমিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই বর্ষা মৌসুমে এসব অংশের ৮৩টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিম চর নারাণদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতি জাদুঘর ও পৈতৃক ভিটাগামী সালামতপুর সড়ক মধুমতী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম বলেন, কামারখালী-সালামতপুরগামী সড়কে ফুলবাড়ী ও রাজধরপুর গ্রামের মধ্যে দিলীপ দরজির বাড়ির সামনে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের গয়েষপুর গ্রামে ৮ থেকে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের হাজিডাঙ্গী ভাঙ্গার মাথায় সলেমান শিকদারের বাড়িসংলগ্ন এলাকায় ৪০ মিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। গত বছরও ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছিল। পাউবো তখন বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকিয়েছিল। তবে চলতি বছর এসব জিও ব্যাগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাউবোর ফরিদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, আলফাডাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলায় ভাঙন রোধে কাজ চলছে। কিছুদিন আগে সালামতপুরগামী সড়কে ভাঙন রোধে কাজ হয়েছে। যেসব জায়গা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব এলাকায় আগে কাজ করা হবে।