৫০০ লোক নিয়ে কাউন্সিলরকে কেন্দ্রে থাকতে বললেন মেয়র

প্রকাশিত: ২২:৪১, ৯ নভেম্বর ২০২১

৫০০ লোক নিয়ে কাউন্সিলরকে কেন্দ্রে থাকতে বললেন মেয়র

ধামরাইয়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫০০ লোক নিয়ে এক কাউন্সিলর ভোটকেন্দ্রে থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সাভার পৌরসভা মেয়র আব্দুল গনি। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে মেয়রের এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সোমবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী কালিপদ সরকারের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে এ বক্তব্য দেন পার্শ্ববর্তী থানা সাভারের পৌর মেয়র।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কুল্লা ইউনিয়নের মামুরা গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে নৌকার প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নেন সাভার পৌর মেয়র ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমজান আলী। সেখানে বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘অনেকে আওয়ামী লীগ করে। আবার অনেকে দলের সঙ্গে বেইমানি করে। এমন বেইমানদের স্থান কোথায় হবে তা বুঝতে পারবেন নির্বাচনের পরে। যারা এ ৫-১০ বছর সুযোগ নিয়েছে আর এখন বেইমানি করছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। কুল্লা ইউনিয়নে ঘুরে দেখছি, কে কী করছে। আমার পৌরসভা থেকে এই এলাকায় কিছু লোক সেটিং করছি। যাদের প্রতি সন্দেহ আছে, তাদের পেছনে টিকটিকি লাগানো হয়েছে। তারা মুখে কী বলে আর অন্তরে কি বলে এগুলো খুঁজে দেখবো এবং ব্যবস্থা নেবো।’

তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন সবাই কেন্দ্রে আসবেন। ভোট দেবেন। পৌরসভা থেকে রমজানের (১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সাভার) নেতৃত্বে, ওকে আমি দায়িত্ব দিয়েছি, সে ৫০০ লোক নিয়ে থাকবে। আপনারা ভোট দেবেন।’ এ সময় সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলর রমজান আলীকে উঠে দাঁড়িয়ে মেয়রের কথায় সমর্থন দিতে দেখা গেছে।

মেয়রের এমন বক্তব্যের পর নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে আছেন কুল্লা ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটি উসকানিমূলক বক্তব্য। মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। একটা কেন্দ্রে যদি ৫০০ লোক বাইরে থেকে নিয়ে আসা হয়, তাহলে সে কেন্দ্রের কী অবস্থা হবে, চিন্তা করা যায়? মানুষতো ভয়ে ভোট দিতেই যাবে না।’ তিনি আতঙ্ক প্রকাশ করে নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে সাভার পৌর মেয়রের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মূলত ওই অর্থে কথাটি বলেননি। তার কথাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তবে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে অপর প্রার্থীর প্রচারণায় কীভাবে অংশ নেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে অনেকেই নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তবে আমার সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছি।’

এ বিষয়ে সাভার পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমজান আলী বলেন, ‘মূলত ৫০০ লোক নিয়ে নয়, নির্বাচনে কিছু বন্ধুবান্ধব প্রার্থী হয়েছে। সেই সুবাধে তারা দুয়েকজন লোক নিয়ে হয়তো সেখানে যেতে পারি। সেই উদ্দেশেই কথাগুলো বলা হয়েছে।’ তবে নির্বাচনি বিধিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুই করবেন না বলেও জানান এ কাউন্সিলর।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হুসাইন খান বলেন, ‘এভাবে কেউ নির্বাচনে থাকতে পারে না। যদি অভিযোগ পাই বা এমন কেউ আসে, প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’