২ দিন পর জীবিত হলেন ‘মৃত’ আব্দুর রহমান

প্রকাশিত: ২৩:৩৫, ৪ নভেম্বর ২০২১

২ দিন পর জীবিত হলেন ‘মৃত’ আব্দুর রহমান

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লড়তে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র কিনতে গেলে গত ৩১ অক্টোবর নির্বাচন কর্মকর্তা জানান তিনি ‘মৃত’। নাম নেই ভোটার তালিকায়ও। এতে মুহূর্তেই হতবাক হয়ে পড়েন টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের মাইস্তা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান। তবে মৃত্যুর খবর জানার দুই দিন পর মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) অবশেষে ‘জীবিত’ হয়েছেন। জটিলতা সমাধান হওয়ায় এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা সমালোচনার মুখে পড়েছেন।  

ভুক্তভোগী আব্দুর রহমানের ছেলে মিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা আব্দুর রহমান সাবেক ইউপি সদস্য। এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ জন্য গত ৩১ অক্টোবর বাবাকে নিয়ে নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র কিনতে যাই। তখন নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, আমার বাবা মৃত। মৃত্যুবরণ করায় তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করি। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকতেও তাকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তা ঢাকায় গিয়ে সংশোধনের পরামর্শ দেন। পরে আমরা ঢাকায় গিয়ে এটি সংশোধন করেছি। তিনিও (নির্বাচন কর্মকর্তা) সহযোগিতা করেছেন। অবশেষে আমার বাবা নির্বাচন করার অধিকার ফিরে পান। পরে নির্বাচনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত আমার বাবা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, এ জন্য তাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। একটি মহল নির্বাচন অফিসের লোকজনের যোগসাজশে এ কাজটি করেছিল।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র কিনতে গিয়ে জানতে পারি আমি মৃত। আমি খুবই চিন্তিত ছিলাম। পরে নির্বাচন কর্মকর্তার সহায়তায় ঢাকা থেকে কাগজটি সংশোধন করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে হালনাগদ করার সময় তথ্য সংগ্রহকারীর তথ্যের ভুলের কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আব্দুর রহমান নির্বাচন অফিসে আসার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে আমি ফরওয়ার্ডিং ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়ে ফোনেও কথা বলেছি। এরপর এটি সংশোধন হয়েছে। তিনি এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’