পথে প্রতিবেশীদের বাধা, মরদেহ নিয়ে পুকুর পার হলেন স্বজনরা

প্রকাশিত: ০০:১৭, ২৯ অক্টোবর ২০২১

পথে প্রতিবেশীদের বাধা, মরদেহ নিয়ে পুকুর পার হলেন স্বজনরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর পর সৎকারের জন্য লাশ নেওয়ার জন্য পথ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার তালশহর পশ্চিত ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় মনমোহিনী দাস নামে এক বৃদ্ধা মারা যান। কিন্তু পূর্ব বিরোধের কারণে তার লাশ শ্মশানে নিয়ে যেতে বাধা দেন প্রতিবেশীরা। পরে পুকুরের পানিতে নেমে স্বজনরা লাশ শ্মশানে নিয়ে যান। পরে এ সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, তালশহর পশ্চিমপাড়ার হরিধন দাসের সঙ্গে আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল প্রতিবেশী পরিমল দাস ও হারাধন দাসের। হরিধন দাসের বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য রাস্তা ছিল না। এ জন্য প্রতিবেশীর বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণ পাশের বাড়িগুলোর ভেতর দিয়ে আসা-যাওয়া করতেন তারা। বৃহস্পতিবার ভোরে হরিধন দাসের ৯০ বছর বয়সী মা মনমোহিনী দাস মারা যান। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্যে তার লাশ শ্মশানে নিতে হারাধন দাসের বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যেতে অনুমতি চান হরিধন দাসের ছেলে বিজয় দাস। সে সময় হারাধন দাস তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে লাশ নিয়ে যেতে নিষেধ করেন। পরে বাধ্য হয়ে পুকুরের পানিতে নেমে লাশ শ্মশানে নেওয়া হয়। ঘটনাটি মোবাইল ফোনের ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ ব্যাপারে বিজয় দাস বলেন, ‘হারাধন দাসের বাড়িতে অনুমতি নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার স্ত্রী অনুমতি দেননি, অন্যদিকে রাস্তা বানিয়ে নিতে বলেছেন। পরে আরেক প্রতিবেশী পরিমল দাসের কাছে যাই। তার ছেলেও লাশ নিয়ে যেতে নিষেধ করেন। পরে বাধ্য হয়ে পুকুরের পানিভেঙে পুকুরের ওপর দিয়ে শ্মশানে গেছি। মনে অনেক কষ্ট। মৃত্যুকে নিয়ে  এমন ঘটনা কোনও মানুষ ঘটাতে পারে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কিন্তু এটাই ঘটলো।’

অভিযুক্ত হারাধন দাস বলেন, ‘আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী কার্তিক নিয়ম মাস। এ মাসে আমরা নিরামিষ খেয়ে থাকি। এ সময়ে আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে কেউ মৃতদেহ নিয়ে গেলে হাঁড়ি-পাতিলসহ সবকিছু ফেলে দিতে হবে। নতুন করে এসব কিনতে হবে। তাই আমি নিষেধ করেছি।’

তবে আক্ষেপ করে হারাধন দাসের বাড়ির মুরুব্বি বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌর দাস মাস্টার বলেন, ‘লাশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। জানালে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটতো না।’ তিনি জানান, মাস তিনেক আগেও তাদের বাড়ির একজন মারা গেছেন, তখন লাশ নিয়ে যেতে দেওয়া হয়। কোনও সমস্যা হয়নি।

এ ব্যাপারে তালশহর (পশ্চিম) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সামা বলেন, ‘আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দুই পরিবারকে নিয়ে বসে ঘটনাটির মীমাংসা করা হয়েছে।’

আশুগঞ্জ থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় মীমাংসা করা হয়েছে। যারা বাধা দিয়েছিলেন তারা বলেছেন, ভুল করেছেন। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে তারা সহযোগিতা করবেন।’

এ ব্যাপারে জেলা ব্রাহ্মণপুরোহিত কল্যাণ সংঘের সভাপতি হরিশঙ্কর চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। এর সঙ্গে নিয়ম মাসের কোনও সম্পর্ক নেই। মৃত্যুর সঙ্গে কারও বিরোধ থাকতে পারে না। আর যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত অমানবিক বিষয়। ঘটনাটি শুনে ব্যতীত হয়েছি।