সৈকত দখল করে রাতারাতি দোকানপাট নির্মাণ

প্রকাশিত: ২১:৪০, ২৫ অক্টোবর ২০২১

সৈকত দখল করে রাতারাতি দোকানপাট নির্মাণ

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা সড়কের উত্তর পাশে আবারও অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে দখলদাররা। রাতারাতি পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করেছে দোকানপাট। সেখানে দোকান বরাদ্দের নামে ইতোমধ্যে চক্রটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

দখলবাজির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসলে অভিযানে নামে শক্তিশালী টিম। সোমবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজের নেতৃত্বে অভিযানকালে দখলদাররা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাজী জসীম উদ্দিন সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি এই দখলে নেতৃত্ব দেন। তার সিন্ডিকেটে রয়েছে আরও চল্লিশ জনের মতো। অর্ধশতাধিক শ্রমিক দিয়ে রাতারাতি তারা পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। দোকান দেওয়ার কথা বলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দখলদার চক্রটি।

উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানকালে দখলদারদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কউক। বছরের মাথায় আবারও সেই একই স্থানে দোকানপাট নির্মাণ শুরু করে চিহ্নিত চক্রটি।

সুগন্ধা পয়েন্টের ওই অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল নোটিশ দেয়। এরপর ব্যবসায়ীরা রিট করলে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।

পরে, গত বছরের ১ অক্টোবর ওই স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের দেওয়া রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। ফলে ওই ৫২টি স্থাপনা উচ্ছেদে কোনও বাধা না থাকায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সুগন্ধা পয়েন্টের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।