সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ২২ অক্টোবর ২০২১

সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে কুমিল্লা শহরের নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনাটি  তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুক লাইভে প্রচার করার কথা স্বীকার করেছেন মো. ফয়েজ আহমেদ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কুমিল্লার তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এ অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাতে সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ‘আদালতের আদেশে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার জন্য সে তার ফেসবুকে লাইভে গিয়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনাটি প্রচার করে।’

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ফয়েজ জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালীন স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলতেন। ফলে মোবাইলে ভিডিও কল ও ক্যামেরায় ভিডিও করতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। সে নানুয়াদিঘির পাড়ের একটি বাসায় থাকতেন। ১৩ অক্টোবর নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার বিষয়টি শুনেই সেখানে ছুটে গিয়ে ফেসবুক লাইভে প্রচার করেন। কিন্তু তার জানা ছিল না, এই লাইভে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরি হবে।’

এই ঘটনায় তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না? জবাবে পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ‘আমরা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তদন্ত করে দেখছি, সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার কর্মকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ফয়েজের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফয়েজকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে, ১৩ অক্টোবর নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুক লাইভে প্রচার করায় ওই সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৬ অক্টোবর পুলিশ থেকে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। সিআইডি ফয়েজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান উর্মি দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা মূল অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।