কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

প্রকাশিত: ১৮:২০, ১৭ অক্টোবর ২০২১

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

নিম্নমানের চা পাতার সঙ্গে কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে ‘শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত চা পাতা’ তৈরি করা হচ্ছে। এই চা পাতা কিনে ঠকছেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত চা ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি চক্র চা গাছের পরিত্যক্ত শুকনো পাতা, অন্যান্য গাছের পাতা, কাঠের গুঁড়া ও চা কারখানার ময়লা সংগ্রহ করে। এসব উপকরণের সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে বিষাক্ত চা পাতা তৈরি করা হয়। ওই চা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এ অবস্থায় ভেজাল চা পাতার ব্যবসায়ীদের ধরতে শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিন্দুরখান ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী ১৯৪৫ পিলার এম সংলগ্ন সিক্কা গ্রামে অভিযান চালান ৫৫ বিজিবির সদস্যরা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল চা পাতা উদ্ধার হয়।

শ্রীমঙ্গল ৫৫-বিজিবির অধিনায়ক এস এন এম সামীউন্নবী চৌধুরী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী সিক্কা গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে মো. নুরু মিয়া ও মৃত আব্দুল বারীর ছেলে আব্দুর রহিম এবং একই গ্রামের আব্দুল মজিদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত চা পাতা উদ্ধার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল চা পাতা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছিলেন। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যান।

৫৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পচা পাতা, চা পাতার গুঁড়া ও কয়লার গুঁড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে চা পাতা তৈরি করা হয়। এসব চা পাতা হকার ও দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু চা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি কোম্পানির পরিবেশক ফাহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে স্বনামধন্য কোম্পানির প্যাকেটজাত ফিনলে চাসহ বিভিন্ন চা বাগানের মানসম্মত চা বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্রেতারা ভেজাল চা পাতা কিনে প্রতারিত হওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার চা কিনতে দ্বিধা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন শ্রীমঙ্গল সেক্টরের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫৫ বিজিবির সদস্যরা উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হামিদপুরের মৃত ছাবু মিয়ার ছেলে ভুটু মিয়ার বাড়িতে ও একই গ্রামের আবু ছায়েদ মিয়ার ছেলে সুহেল মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছোট-বড় ২৪টি বস্তায় প্রায় ৫০০ কেজি ভেজাল চা ও ২০০ কেজি কাঠের গুঁড়া জব্দ করেছিলেন।